৯ বছর বয়সী আনায়া কেএস-এর ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে সে বিরল এবং প্রায়শই মারাত্মক অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিসে (Amoebic Meningoencephalitis) আক্রান্ত ছিল না। অফিসিয়াল পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এখন তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ (Influenza A) ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট ভাইরাল নিউমোনিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।
কোঝিকোড় সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ জানিয়েছে, ফ্লু ভাইরাসের জটিলতার কারণেই গত ১৪ আগস্ট আনায়ার মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট পরিচালিত ময়নাতদন্তে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্ত জমাট বাঁধা (Congestion) এবং ফোলা, সেই সঙ্গে বুকে ফ্লুইড জমা হওয়ার প্রমাণ মেলে— যা ভাইরাল নিউমোনিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আনায়ার নাক ও গলার সোয়াবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
ডাঃ লেভিস ভাসিম এম স্বাক্ষরিত এই রিপোর্টে চূড়ান্তভাবে বলা হয়েছে যে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ভাইরাসজনিত ভাইরাল নিউমোনিয়ার জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে।
ভুয়া রিপোর্টের জেরে ডাক্তারকে কোপ!
আনায়ার মৃত্যু নিয়ে আগে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল যখন তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে শিশুটি হয়তো অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিসের শিকার হয়েছে। তবে পরিবার এই রোগ নিশ্চিত করে কোনো অফিসিয়াল রিপোর্ট বা ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি।
এই কারণে হতাশ হয়েই সম্প্রতি আনায়ার বাবা সুনুপ একটি দা নিয়ে থামারাসেরি তালুক হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বিপুল পিটি (৩৪)-এর উপর হামলা চালান। মাথায় আঘাত পান ওই চিকিৎসক।
সুনুপ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাননি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সনদ আটকে রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুনুপ তার এই সহিংস কাজের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এবং তালুক হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে দায়ী করেন।
এই ঘটনার পরের দিনই কেরল জুড়ে সরকারি চিকিৎসকরা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষার দাবি জানান।