ব্যারাকপুরের অশীতিপর বৃদ্ধকে লাথি মেরে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর তৃণমূলের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর তথা আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ‘পান্ডুলিপি’ এখন পুলিশের হাতে। এক সময় যাঁকে দমাতে খোদ তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বার কাউন্সিলে নালিশ জানিয়েছিলেন, আজ সেই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ছে গোটা শিল্পাঞ্চলে।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর থানায় পাঁচটি গুরুতর মামলা রুজু হয়েছিল। এমনকি ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ আদালত কক্ষের ভিতরেই পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং তদন্তে বাধা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, কাউন্সিলর হওয়ার পর রবীন্দ্রনাথের দাপট ‘মহীরূহ’র আকার নেয়। তোলাবাজি, কাটমানি এবং বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, ঘর সংস্কারের জন্য ২২ হাজার টাকা কাটমানি না দেওয়ায় তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন এই কাউন্সিলর। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, পুলিশ প্রশাসন যদি আগে সাহস করে ব্যবস্থা নিত, তবে আজ এই বৃদ্ধের প্রাণ যেত না। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকলেও তাঁর দীর্ঘদিনের অপরাধের খতিয়ান এখন ব্যারাকপুরের ঘরে ঘরে চর্চার বিষয়।