অসম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি এবার নির্বাচনের লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রথম দফায় ১৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর, আজ দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। এই দফায় আরও ৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে একাধিক চমক এবং কৌশলগত রদবদল।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসমের ১২৬টি আসনের মধ্যে যেখানে ঘাসফুল শিবিরের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল এবং যেখানে সংগঠনের শক্তি যথেষ্ট, সেখানেই প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় দফার এই তালিকায় সমাজসেবী থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদের নাম, যাকে মান্ডিয়া আসন থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমীকরণের স্বার্থে চামারিয়া কেন্দ্র থেকে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি দুলু আহমেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে অন্য রণকৌশল নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া ব্লকের সদস্য হলেও অসমে তৃণমূল কংগ্রেস তার নিজস্ব অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছে। অসম তৃণমূলের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব আগেই জানিয়েছিলেন যে, বিজেপিকে রুখতে এবং বাংলার উন্নয়নের মডেল অসমে পৌঁছে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয় দফার এই ৭ প্রার্থী ঘোষণার ফলে বর্তমানে তৃণমূলের লড়াইয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। উত্তর ও দক্ষিণ অসমের পাশাপাশি বরাক উপত্যকাতেও প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৬-এর এই মহারণে তৃণমূলের এই দ্বিতীয় তালিকা বিরোধী জোটে কতটা অস্বস্তি বাড়াবে, এখন সেটাই দেখার।