‘অরূপকে নেতা বানিয়েছেন অভিষেকই’, বিস্ফোরক কল্যাণের তোপে টালমাটাল ঘাসফুল শিবির!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অন্তর্কলহ যেন আর গোপন থাকছে না। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দল জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি। কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্ত ঘোষের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করলেন কল্যাণ। বুধবারের এই জোড়া ইস্তফা ঘিরে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, তা এখন প্রকাশ্য রাজপথে।

পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকে অরূপ চক্রবর্তী এবং বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে সুশান্ত ঘোষের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে কল্যাণ বলেন, “অরূপকে নেতা করেছেন কে? অভিষেক। তাই এই পরিস্থিতির জন্য তিনিই দায়ী।” কল্যাণের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেরই গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অরূপ চক্রবর্তীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বলেন, “গোটা রাজ্যে বক্তৃতা করে বেড়িয়েছে, আজ কেন যাচ্ছে না? ওঁর যোগ্যতা কী যে সারা রাজ্যের নেতা হবে?”

কল্যাণের নিশানায় শুধু অরূপ নন, রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া কাকলি সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থেকে জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। আরজি কর-কাণ্ড এবং আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত অসন্তোষকে ইস্তফার কারণ হিসেবে দেখালেও, কাকলির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন কল্যাণ। তিনি সরাসরি নারদ মামলার প্রসঙ্গ টেনে এনে কাকলিকে বিঁধেছেন। উল্লেখ্য, লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই কাকলির সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠিও লিখেছেন তিনি।

তৃণমূলের অন্দরের এই কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন নয়, তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নেতা-মন্ত্রীদের এই পারস্পরিক আক্রমণ দলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ দলেরই প্রবীণ সাংসদ, তখন সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দ্বন্দ্ব যদি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা না হয়, তবে আসন্ন সময়ে দলের বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ নেতৃত্ব এই গোটা বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করে। একদিকে দলের অন্দরে সাংগঠনিক অস্থিরতা, অন্যদিকে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই সময়টি যে অত্যন্ত অগ্নিপরীক্ষার, তা বলাই বাহুল্য। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য কি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অলিন্দে চলছে জল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy