হরিয়ানার আম্বালা নিবাসী শচদেব দম্পতির (Sachdevas) জীবনে এক বিভীষিকা নেমে আসে, যখন তাঁদের জামাইয়ের জন্য পাঠানো টাকা ভুল করে অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই ভুল শুধরাতে তাঁরা পঞ্জাব সিন্ধ ব্যাঙ্কে যান। এই সফরের পরই শুরু হয় সেই ঘটনাপ্রবাহ, যা প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে প্রবীণ দম্পতিকে ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র শিকার করে তোলে।
কীভাবে হলো এই প্রতারণা? ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’ হলো এক প্রকার জালিয়াতি, যেখানে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ বা সরকারি আধিকারিক (যেমন সিবিআই, ইডি) বলে পরিচয় দেয় এবং ভুয়ো নথি ও গ্রেফতারের হুমকি ব্যবহার করে।
ব্যাঙ্কে যাওয়ার কিছু পরেই, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী শশী এবং হরিশ শচদেব দম্পতির কাছে ফোন আসে। প্রতারকরা দাবি করে যে তাঁদের আধার কার্ডের অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাঁরা ১,১০০ কোটি টাকার একটি অর্থ পাচার (money laundering) কেলেঙ্কারির প্রধান সন্দেহভাজন।
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু করে ১০ দিন ধরে দম্পতিটিকে স্কাইপ ভিডিও কলের মাধ্যমে ক্রমাগত নজরদারি করা হয়। হরিশ শচদেব জানান, “আমাদের প্রতিটি ছোট কাজের জন্য অনুমতি নিতে হতো—এমনকি বাথরুমে যাওয়ার জন্যও।”
প্রতারকরা ভুয়ো পুলিশ ও সিবিআই আধিকারিক সেজে আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখিয়েছিল। এই ১৪ দিনের ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’ চলাকালীন, দম্পতিকে তাঁদের জীবনের সঞ্চয়, সোনার গয়না বিক্রি করা টাকা সহ ১.০৫ কোটিরও বেশি টাকা তুলে দিতে বাধ্য করা হয়।
প্রতারকরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সঞ্জীব খান্নার একটি জাল আদেশ সহ সিবিআই এবং ইডি-এর ভুয়ো নথি ব্যবহার করেছিল।
দম্পতির বিশ্বাস, প্রতারকরা যখন বুঝতে পারে যে তাদের কাছ থেকে আর কোনো টাকা পাওয়া সম্ভব নয়, তখন তারা দম্পতির মেয়ের কাছে বার্তা পাঠায়। অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর, তাঁদের মেয়ের সাহায্যে, দম্পতি নিজেদের ‘মুক্ত’ করে ফোন বন্ধ করতে সক্ষম হন এবং সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ: শচদেব দম্পতি সুপ্রিম কোর্টে একটি চিঠি লিখে তাঁদের দুর্দশা বর্ণনা করেন। শীর্ষ আদালত এই চিঠির গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৭ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) ভারতে বাড়তে থাকা ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’ স্ক্যামের বিষয়টি উত্থাপন করে। আদালত সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই সংক্রান্ত সব এফআইআর-এর বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে এবং সমস্ত মামলার তদন্ত সিবিআই-এর কাছে স্থানান্তরিত করার কথা বিবেচনা করছে।





