‘অভিষেক থাকলে আমি আর নেই!’ তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতায় কাঁটা, দল ছাড়ার পথে কি হেভিওয়েট কল্যাণ?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে ফের বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন প্রবীণ সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিদ্রোহে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে ভাবে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের অস্থিরতা এখন প্রকাশ্য রাস্তায়।

দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দলের বর্তমান কর্মপদ্ধতি ও নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে। এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “দলের অন্দরে যেভাবে ঔদ্ধত্য বাড়ছে, তা সহ্য করার মতো নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দলের মূল মুখ হয়ে থাকেন, তবে আমি আর এই দলে থাকব কি না, তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এই বিদ্রোহের নেপথ্যে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ চেয়ে করা আবেদনের শুনানি ছিল এদিন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানিতে উচ্চ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র ভবানী ভবন দফতরে হাজিরা দিতে হবে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলেই তবেই তাঁর আইনি সুরক্ষা বহাল থাকবে।

বিচার প্রক্রিয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নাটকীয় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি আচমকাই ঘোষণা করেন, এই মামলায় তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আর সওয়াল করবেন না। প্রবীণ এই আইনজীবীর হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা উসকে দিয়েছে। কেন দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত? বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং দল পরিচালনার ধরন নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরণ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এতদিন যে চাপা ক্ষোভ ছিল, তা আজ আর অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব হিসেবে প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। সংগঠনের ওপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবীণ নেতাদের ব্রাত্য করে রাখার যে অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে শোনা যাচ্ছিল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত এক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের পুরোনো ও সৎ নেতাদের মর্যাদা না থাকলে তাঁর পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। এখন দেখার, তৃণমূল সুপ্রিমো এই সংকট মোকাবিলায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দলের অভ্যন্তরীণ এই ডামাডোল আগামী দিনে নির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy