পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন প্রতিবাদের নাম ‘অভয়া’। সেই নির্যাতিতা অভয়ার বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে এবার পানিহাটিতে অভয়ার বাড়িতে হাজির হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ, ২৬ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যায় পানিহাটিতে অভয়ার শোকাতুর মা-বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই সফর শাসক শিবিরের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
অভয়ার মাকে পাশে বসিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই সরকার শুধু প্রমাণ লোপাট করতে জানে। পুলিশ প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভয়ার রক্ত বৃথা যেতে দেব না।” তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, যে রাজ্যে মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে থাকার অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই। তাঁর অভিযোগ, সরকার মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে নানারকম রাজনৈতিক চাল চালছে।
বিরোধী দলনেতার এই সফর ঘিরে পানিহাটি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দেন যে, লড়াই এখন শুধু রাজপথে নয়, ব্যালট বাক্সেও হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভবানীপুর থেকে আপনার বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছে। অভয়ার কান্না বৃথা যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে অভয়া ইস্যুকে সামনে রেখে শুভেন্দু অধিকারী যে আবেগপ্রবণ কার্ড খেললেন, তাতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট অস্বস্তিতে। বিশেষ করে অভয়ার পরিবারের সঙ্গে শুভেন্দুর এই একাত্মতা এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তোলা জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘চরম বার্তা’র পাল্টা দিতে তৃণমূল কী কৌশল অবলম্বন করে।