অফিসের ইমেল দেখা বাধ্যতামূলক নয়! ছুটির দিনে বসকে ‘ডিসকানেক্ট’ করার অধিকার চেয়ে সংসদে ঐতিহাসিক বিল সুপ্রিয়া সুলের

কর্মক্ষেত্র এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে, এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে লোকসভায় একটি যুগান্তকারী ব্যক্তিগত সদস্য বিল (Private Member’s Bill) পেশ করেছেন। বিলটির নাম— “দ্য রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল, ২০২৫”। এই বিলটির মূল লক্ষ্য হলো, ডিজিটাল যুগে কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ‘বার্নআউট’ কমানো।

বিলের মূল দাবি ও অধিকার:

শুক্রবার লোকসভায় উপস্থাপিত এই বিলটি প্রতিটি কর্মচারীকে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত ইলেকট্রনিক যোগাযোগ (যেমন অফিসের ফোন কল বা ইমেল) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আইনি অধিকার প্রদান করার কথা বলে।

  • সময়সীমা: অফিসের কাজের সময় শেষ হলে বা ছুটির দিনেও পুরো সময়টাতে কোনও কর্মচারীকে যাতে অফিসের ফোন ধরতে বা ইমেল দেখতে বা তার জবাব দিতে বাধ্য না করা হয়, সেই অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

  • উদ্দেশ্য: সুপ্রিয়া সুলে তাঁর X হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, এর লক্ষ্য হল “আজকের ডিজিটাল সংস্কৃতির কারণে সৃষ্ট বার্নআউট” কমিয়ে উন্নত মানের জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যকর কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা।

আইনি সুরক্ষা ও জরিমানা:

বিলটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজের নমনীয়তা দিলেও এটি পেশাদার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যেকার সীমারেখা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বহন করে। বিলের বিধান মেনে না চললে বা কর্মীদের এই অধিকার লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ওপর জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে তাঁর বিলে কোম্পানিগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কর্মচারীদের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসংস্কৃতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “প্রত্যেক কোম্পানির তাদের কর্মীদের সঙ্গে পরিষেবার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করার সময় এসেছে।”

কর্মীদের স্বার্থরক্ষা এবং কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই বিলটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy