‘অপারেশন ত্রাশি-I’-এর রোমহর্ষক ইনসাইড স্টোরি! মাটির ঘরে ওত পেতে থাকা জঙ্গিদের কীভাবে কালঘাম ছোটাল সেনা?

জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এখন কার্যত রণক্ষেত্র। সেনার বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ত্রাশি-I’ (Operation Trashi-I) এক বড়সড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে দিল। চাট্রু জঙ্গলের ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি মাটির ঘরে লুকিয়ে ছিল দুই দুর্ধর্ষ জঙ্গি। কিন্তু ভারতীয় সেনার নিখুঁত গোয়েন্দা জাল আর সাহসিকতার সামনে টিকতে পারল না তারা। কয়েক ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর খতম হয়েছে দুই জঙ্গি, উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক AK-47 রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, সীমান্ত পেরিয়ে আসা একদল জঙ্গি কিশতওয়ারের এই গভীর জঙ্গলে ডেরা বেঁধেছে। লক্ষ্য ছিল বড়সড় কোনো নাশকতামূলক কাজ। খবর পাওয়ামাত্রই রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এলাকাটি ঘিরে ফেলে। মাটির ঘরের দেওয়াল ভেদ করে জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলেও পিছু হঠেনি জওয়ানরা। বরং কৌশলগতভাবে ঘরটি উড়িয়ে দিয়ে এবং পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে আক্রমণ চালিয়ে খতম করা হয় তাদের।

নিহত জঙ্গিরা লস্কর-ই-তৈবার (LeT) সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে এই এনকাউন্টার কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন ত্রাশি’ আসলে এক বড় ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে আরও জঙ্গি ডেরা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ড্রোন এবং স্নিফার ডগ নিয়ে কিশতওয়ারের পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান এখনও জারি রয়েছে।

সেনাবাহিনীর নজর এখন পাহাড়ের সেই গোপন সুড়ঙ্গগুলোর দিকে, যেখানে রসদ মজুত করে রাখা হয়েছে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে একটি জঙ্গিও পালাতে না পারে। রহস্য বাড়ছে, কারণ উদ্ধার হওয়া নথিতে মিলেছে কিছু সংকেত যা ইঙ্গিত দিচ্ছে কোনো এক বড় ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় হওয়ার। উপত্যকায় কি তবে বড় কোনো বিপদের কালো মেঘ জমছে? উত্তর খুঁজছে সেনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy