বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্রমশ জট খুলছে। তদন্তে নেমে এক বড়সড় ব্রেকথ্রু পেল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাইক এবং একটি সন্দেহভাজন চারচাকা গাড়ি। তবে উদ্ধার হওয়া এই যানবাহনের নম্বর প্লেট নিয়ে পুলিশ যে তথ্য সামনে এনেছে, তাতে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও।
ভুয়ো নম্বর প্লেটের কারসাজি পুলিশ সূত্রে খবর, মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় যে অপারেশন চালানো হয়েছিল, তাতে অন্তত চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি এসইউভি (SUV) ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও বাইকের নম্বর প্লেট পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেগুলি সবকটিই ভুয়ো (Fake Number Plate)। এমনকি একটি নম্বর প্লেট অন্য একটি বাতিল হয়ে যাওয়া স্কুটারের নামে নথিভুক্ত ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, খুনিরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তদন্তকে বিভ্রান্ত করতেই এই কাজ করেছে।
পেশাদারিত্বের ছাপ পরতে পরতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘাতকরা কেবল ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহারই করেনি, সিসিটিভি ফুটেজ এড়াতে তারা বাইক নিয়ে এমন সব গলি পথ ব্যবহার করেছে যেখানে নজরদারি কম। উদ্ধার হওয়া একটি বাইক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নম্বর প্লেট বদলে ফেলার এই কায়দা প্রমাণ করে যে খুনিরা পেশাদার অপরাধী এবং তারা আগে থেকেই এই রুট রেইকি করে রেখেছিল।
শুভেন্দুর হুঙ্কার এদিকে, খুনিদের ব্যবহৃত যান উদ্ধার হওয়ার খবর আসতেই সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “নম্বর প্লেট জাল করা থেকে শুরু করে গ্লক পিস্তল ব্যবহার—সবই প্রমাণ করে এটা একটা হাই-প্রোফাইল পলিটিক্যাল মার্ডার। পুলিশ যেন শুধু চুনোপুঁটি ধরে দায় না সারে, আসল মাস্টারমাইন্ডকে সামনে আনুক।”
তদন্তের পরবর্তী ধাপ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়ো নম্বর প্লেটের আড়ালে ঘাতকরা হয়তো ইতিমধ্যেই জেলা বা রাজ্য ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছে। উদ্ধার হওয়া বাইকের ইঞ্জিনের চেসিস নম্বর থেকে আসল মালিকের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে এই ভুয়ো নম্বর প্লেটের রহস্য ভেদ করতে পারলেই আসল অপরাধীদের নাগাল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তিলোত্তমার উপকণ্ঠে ঘটা এই খুনের ব্লু-প্রিন্ট আসলে কোথায় তৈরি হয়েছিল, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।





