পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে ১১৪-১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— তবে কি এবার দেশেও বাড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম?
এই জল্পনার মাঝেই বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, সরকারি এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে (ANI) জানিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এখনই বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১৩০ ডলার অতিক্রম না করে, তবে ভারতের বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে।
ভারতের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে মজুত ভাণ্ডার। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের স্টক রয়েছে, যা দিয়ে বর্তমান চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব। এছাড়া ভারত সরকার ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা বর্তমান মুনাফার মার্জিন ব্যবহার করে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে যুদ্ধের ডামাডোলেও সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি টান পড়ছে না। তবে রান্নার গ্যাসের (LPG) ক্ষেত্রে রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে যাতে কালোবাজারি আটকানো যায়। আপাতত পেট্রোল পাম্পগুলোতে কোনো ঘাটতি নেই এবং দামও অপরিবর্তিত থাকছে।