ক্ষমতার ব্যাটন হাতে নিয়েই মেজাজ বদলে দিলেন বিহারের নব্য নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রাজ্যে অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে এক নজিরবিহীন বার্তা দিলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় সম্রাট চৌধুরী জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে অপরাধীদের কোনো জায়গা নেই এবং প্রয়োজনে তাদের চরম পরিণতি দিতেও যেন পিছপা না হয় পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রীর রণংদেহি মেজাজ: বিহারের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই সম্রাট চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন রূপে। সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সবকিছুর আগে। অপরাধীরা যদি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, তবে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। সরাসরি পুলিশি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে অপরাধীদের লাশে মালা দিন, কিন্তু অপরাধ নির্মূল হওয়া চাই।”
গেরুয়া শিবিরের কড়া বার্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্রাটের এই ‘বুলডোজার স্টাইল’ বা কড়া বার্তা উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের শাসনপ্রণালীর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিহারে দীর্ঘদিনের গুন্ডারাজ এবং তোলাবাজি রুখতে পুলিশকে কার্যত ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের গুলিতে যদি কোনো দুষ্কৃতীর মৃত্যুও হয়, তবে সেই দায়ভার প্রশাসন নেবে—এমনই সুর শোনা গেছে তার কণ্ঠে।
প্রশাসনের তৎপরতা: মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর থেকেই বিহার জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশি অভিযান। বিশেষ করে দাগি অপরাধী এবং পলাতক আসামিদের ধরতে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে পাটনা পুলিশ। তবে এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে মানবাধিকার মহলে জল্পনা শুরু হলেও, সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন—অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এই দাওয়াই কার্যকর হতে পারে।
বিহারের এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এবং অপরাধ দমনে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর রাখতে ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট। খবরটি শেয়ার করে আপনার মতামত জানান।





