বীরভূম মানেই এক সময় ছিল অনুব্রত মণ্ডলের দাপট। তবে এবারের চব্বিশের লোকসভা ভোটের (বা ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) সমীকরণটা অনেকটাই আলাদা। কেষ্টহীন বীরভূমে এখন প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে টলিউড তারকা তথা বিদায়ী সাংসদ শতাব্দী রায়। তবে শুধু বিরোধী নয়, এবার শতাব্দীকে লড়তে হচ্ছে নিজের দলের অন্দরের কিছু অস্বস্তি এবং নতুন বিতর্ক নিয়ে। সম্প্রতি এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই সব ‘গরম’ ইস্যু নিয়ে অকপট উত্তর দিলেন তিনি।
অনুব্রতহীন বীরভূম ও শতাব্দীর লড়াই
অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর থেকেই বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শতাব্দী জানান, দলগতভাবে তাঁরা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের নিরিখেই ভোট হবে। তবে কি কেষ্টর অনুপস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলবে না? শতাব্দীর দাবি, সংগঠন ব্যক্তিবিশেষের চেয়ে অনেক বড়। যদিও বিরোধীরা বারবার দাবি করছে, ‘দাদা’ না থাকায় তৃণমূলের রাশ আলগা হয়েছে, যা এক প্রকার হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন এই তারকা সাংসদ।
‘স্যার’ (SIR) বিতর্ক ও দলের অন্দরের ক্ষোভ
সম্প্রতি জেলা রাজনীতিতে ‘স্যার’ ডাকা নিয়ে একটি বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। দলের কর্মীদের একাংশ কি ক্ষুব্ধ? এই প্রশ্নের উত্তরে শতাব্দী রায় অত্যন্ত কৌশলী এবং স্পষ্টবাদী। তাঁর মতে, সম্মানের বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, একে রাজনীতির ইস্যু বানানো অনুচিত। তিনি বলেন, “কাজ কথা বলবে, বিতর্ক নয়।”
হুমায়ুন কবীরের আক্রমণ ও গোষ্ঠীকোন্দল
দলেরই বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে শোরগোল পড়েছিল রাজনৈতিক মহলে। বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উঠতেই শতাব্দী স্পষ্ট জানান:
দলে বড় পরিবারে মতপার্থক্য থাকে, কিন্তু ভোটের ময়দানে সবাই এক।
কারও ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ দলের সামগ্রিক নীতি নয়।
গোষ্ঠীকোন্দলের চেয়ে উন্নয়নের প্রচারই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
শেষ কথা
পুরনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ—শতাব্দী রায়ের কাছে এই নির্বাচন আক্ষরিক অর্থেই এক অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে বীরভূমের লাল মাটির রাজনৈতিক সমীকরণ রক্ষা করা, আর অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলে জয়ের হ্যাটট্রিক নিশ্চিত করা। এখন দেখার, বীরভূমের সাধারণ ভোটাররা শতাব্দীকে ফের দিল্লির মসনদে পাঠান কি না।





