পরিচালক অনীক দত্তর মৃত্যুর ঘটনায় দানা বাঁধছে ঘোর রহস্য। মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধান! এইটুকু সময়ের মধ্যেই কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলো পরিচালকের, তা নিয়েই এখন তদন্তের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ পরিচালককে আবাসনের গেট দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। আর ঠিক ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
১৫ মিনিটের রহস্যভেদে পুলিশের নজর: এত কম সময়ের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে মরিয়া লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। পুলিশ যে বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে তদন্ত চালাচ্ছে:
সিসিটিভি ক্যামেরার ভূমিকা: আবাসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১টা থেকে ১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ওই চত্বরে আর কে কে ছিলেন বা তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শেষ সময়ের কথোপকথন: এই ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি কি কারোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন? তাঁর কল লিস্ট ও মেসেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান: পরিচালকের আবাসনে ঢোকার সময় নিরাপত্তারক্ষী বা অন্য কোনো বাসিন্দা তাঁকে দেখেছিলেন কি না, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। ১টা ১৫ মিনিটে প্রথম কে তাঁর দেহটি দেখেন এবং কোথায় দেখেন, সেই সূত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ছাদের পরিস্থিতি: পরিচালক একা ছাদে গিয়েছিলেন নাকি কারোর সঙ্গে গিয়েছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাদের কোনো জায়গায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে কি না, তা জানতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে।
পরিচালকের শারীরিক অবস্থা এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে ওঠা জল্পনা ও সন্দেহের নিরসনে এই ‘১৫ মিনিটের রহস্য’ ভাঙাই এখন কলকাতা পুলিশের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনার দিন আবাসন চত্বরে অন্য কেউ প্রবেশ করেছিল কি না, তাও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।
এই রহস্যের কিনারা হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।





