তথাকথিত সভ্য একুশ শতকেও জাতপাতের ভেদাভেদ কতটা প্রকট, তার প্রমাণ মিলল মহারাষ্ট্রের এক ভয়ঙ্কর ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনায়। ভিন-জাতে (Inter-caste) সম্পর্কের জেরে ‘নিচু জাতের’ এক তরুণকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উচ্চ বংশের প্রেমিকার বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে। এই নৃশংসতার পরই গোটা দেশে আলোড়ন ফেলেছে একটি ঘটনা—প্রেমিকের শেষকৃত্যে গিয়ে তাঁর মৃতদেহের সঙ্গেই বিয়ে করেছেন ওই তরুণী।
নৃশংসতা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ:
মহারাষ্ট্রে মৃত সক্ষম তাতে (২০) নামের ওই তরুণ দলিত সম্প্রদায়ের। ২১ বছর বয়সী আঁচল মামিদ্বারের সঙ্গে তাঁর তিন বছর ধরে সম্পর্ক ছিল, যার সূত্রপাত হয় ইনস্টাগ্রামে। অভিযুক্ত বাবা ও ভাইদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
আঁচল মামিদ্বার একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন:
ঘাতক পরিবার: তরুণীর অভিযোগ, তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই তাঁর পরিবারের সদস্যরা সক্ষমের উপর আক্রমণ করে।
পুলিশের উস্কানি: আঁচলের দাবি, ২ জন পুলিশকর্মী তাঁর ভাইদের উস্কানি দিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা সক্ষমকে আক্রমণ করে।
বিশ্বাসঘাতকতা: তাঁর ভাইয়েরা প্রথমে তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁরা বিয়ের আয়োজন করবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিবারের লোকজন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন বলে অভিযোগ আঁচলের।
গুপ্ত পরিকল্পনা: আঁচল জানান, তাঁর পরিবারের লোকেরা সক্ষমের সঙ্গে ভালোভাবে মেলামেশা করত এবং একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করত। ঘুণাক্ষরেও তিনি টের পাননি যে এমন কিছু ঘটতে চলেছে।
আঁচলের চোখে খুনের কারণ ও ভবিষ্যৎ:
আঁচলের কথায়, এই খুনটি সম্পূর্ণরূপে জাতের কারণেই করা হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বাবা-দাদারা সবসময় বলত আমরা গ্যাংস্টার। ওর সাহস কী করে হয় আমাদের মেয়ের সঙ্গে কথা বলে?”
এই ঘটনার পর আঁচলের পরিবার তাঁর জন্য বাপের বাড়ির দরজা চিরকালের মতো বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, নিহত সক্ষমের পরিবার আঁচলকে মেনে নিয়েছে। আঁচল এবার সক্ষমের পরিবারের সঙ্গেই থাকবেন বলে ঠিক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সকলে মিলে তাঁরা সক্ষমের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইবেন এবং দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন আঁচল নিজেও।