শনিবার ফের শিলিগুড়ির একটি বহুল পরিচিত শপিংমলে জোরদার অভিযান চালাল শিলিগুড়ি পুরনিগম। কলকাতা হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ মেনে প্রশাসনের কড়া তত্ত্বাবধানে মলের চিহ্নিত অবৈধ নির্মাণগুলি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই শপিংমল চত্বরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ, পুরনিগমের কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এদিনের এই পদক্ষেপ। শপিংমলের অন্দরে অনুমোদনবিহীন নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতেও এই ইস্যুতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় মলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এই শপিংমলকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। তৎকালীন এক পদাধিকারী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, এই মলের অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই। পাশাপাশি অবৈধভাবে লিফট নির্মাণ এবং ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই গত কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগেও পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত লিফট অপসারণ করা হয়েছিল এবং কয়েকটি দোকানের বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। শনিবারের অভিযানে সেই ভাঙার প্রক্রিয়াকেই আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট দাবি, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ এবং আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে মজবুত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শপিংমল চত্বরে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে এই উচ্ছেদ ঘিরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাঁদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ এবং প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়েছে বলে খবর। যদিও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকায় শিলিগুড়ির এই শপিংমলকে ঘিরে বিতর্ক এবং আলোচনা এখন তুঙ্গে। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





