আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। একদিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেস তাদের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে জনগনের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছে, অন্যদিকে তখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের অসন্তোষকে হাতিয়ার করে আসরে নামল বিজেপি। সপ্তম বেতন কমিশন এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এখন ভোটের ময়দানের অন্যতম প্রধান ইস্যু।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিজেপির দাবি, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমহারে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করবে। বিজেপির এই ঘোষণা নবান্নের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো কর্মচারী সংগঠনগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা তাদের ন্যায্য পাওনা অর্থাৎ বকেয়া ডিএ ফিরিয়ে দেবে, ব্যালট বক্সে তাদের পক্ষেই রায় দেবেন কর্মীরা। কর্মীদের এই হুঁশিয়ারি তৃণমূল শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিস্তিতে ডিএ বাড়ানো হলেও, কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় তা এখনও অনেক কম।
বিজেপির এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার। তবে ভোটের মুখে রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই ‘জোড়া চাপ’ যে নবান্নের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে রাজকোষের টানাটানি, অন্যদিকে লাখ লাখ সরকারি কর্মীর মন জয়ের লড়াই— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন ডিএ আর বেতন কমিশনই লাইমলাইটে।