UPI-এর রমরমা বাজার, তবু কেন পকেটে নগদ ৪২ লক্ষ কোটি? ভারতের ‘ক্যাশ প্যারাডক্স’ কি জানেন?

ডিজিটাল পেমেন্টের দুনিয়ায় ভারত এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) ২,৩২০ কোটি লেনদেনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অথচ, আশ্চর্যজনকভাবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, দেশে প্রচলিত নগদ মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ লক্ষ কোটি টাকায়। ইউপিআই-এর এই জয়জয়কারের মাঝেও নগদ টাকার এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশের অর্থনীতিতে এক ‘ক্যাশ প্যারাডক্স’ বা নগদ অর্থের আপাতবিরোধ তৈরি করেছে।
কেন এই নগদ অর্থের আধিপত্য?
২০১৬ সালের নোট বাতিলের সময় দেশে প্রচলিত নগদ মুদ্রার পরিমাণ ছিল ১৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৪২ লক্ষ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এসবিআই রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট নগদ অর্থের প্রায় ৯৭.৬ শতাংশ সাধারণ মানুষের হাতে রয়েছে, ব্যাংকে নয়। এর প্রধান কারণ, ভারতীয় পরিবারগুলি আজও নগদ টাকাকে জরুরি অবস্থা, বড় লেনদেন এবং নিরাপত্তার চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করে। যদিও ৫০০ টাকার কম ৮৬ শতাংশ লেনদেন এখন ডিজিটাল, কিন্তু রিয়েল এস্টেট, কৃষি এবং অসংগঠিত ব্যবসার বড় লেনদেনগুলো আজও নগদেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া, জিএসটি নোটিশের ভয়ে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ডিজিটাল লেনদেন এড়িয়ে নগদ টাকা নেওয়াকে বেশি সুরক্ষিত মনে করছেন। সোনার ক্রমবর্ধমান দামও নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধিতে জ্বালানি জোগাচ্ছে।
নগদ টাকা সংক্রান্ত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যা আপনার জানা জরুরি:
১. বাড়িতে নগদ টাকা: বাড়িতে কত টাকা রাখা যাবে, তার কোনো আইনি সীমা নেই। কিন্তু আয়কর তদন্তে টাকার বৈধ উৎস (যেমন—বেতন, ব্যবসার আয়) দেখাতে না পারলে ১৩৭% পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
২. ২ লক্ষ টাকার সীমা: আয়কর আইনের ২৬৯এসটি ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে একই দিনে বা একই অনুষ্ঠানে ২ লক্ষ টাকার বেশি নগদ নেওয়া নিষিদ্ধ।
৩. ঋণ গ্রহণের নিয়ম: আয়কর আইনের ২৬৯এসএস ধারা অনুযায়ী, ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি ঋণ বা আমানত নগদে নেওয়া যাবে না। তা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নিতে হবে।
৪. ব্যাঙ্ক লেনদেনের ওপর নজর: সেভিংস অ্যাকাউন্টে বছরে ১০ লক্ষ বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ লেনদেন হলে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর বিভাগকে তার বিবরণ (SFT) পাঠায়।
৫. বিদেশে ভ্রমণ: আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণ বা ফেরার সময় একজন ভারতীয় নাগরিক সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা সঙ্গে রাখতে পারেন।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারত পুরোপুরি নগদবিহীন সমাজ না হলেও, ডিজিটাল ও নগদ অর্থ একে অপরের পরিপূরক হয়েই টিকে থাকবে। জিডিপির অনুপাতে নগদ টাকার ব্যবহার কমছে, যা অর্থনীতির আধুনিকীকরণের ইঙ্গিত দেয়। সুতরাং, ইউপিআই দৈনন্দিন ছোট লেনদেন সামলালেও, বড় ও জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকাই আজও ভারতের ভরসা।