২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে (শুভেন্দু অধিকারীর গড়) নির্বাচনী জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূল মানেই এখন গুন্ডাগর্দি আর তুষ্টিকরণের রাজনীতি।”
“১০ বছর আগের উত্তরপ্রদেশ এখনকার বাংলা” জনসভায় ভিড়ে ঠাসা ময়দানে দাঁড়িয়ে যোগী উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আট-নয় বছর আগে উত্তরপ্রদেশে যে অরাজকতা চলত, আজ বাংলার অবস্থাও ঠিক তেমন। আগে উত্তরপ্রদেশেও গুন্ডাদের দাপট ছিল, উন্নয়ন ছিল না। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই সব ইতিহাস। আজ বাংলাতেও পরিবর্তনের সময় এসেছে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, তৃণমূল সরকার আধ্যাত্মিক আইকনদের অপমান করছে এবং হিন্দুদের পরিচয় বিপন্ন করে তুলছে। তিনি বলেন:
“বাংলা হলো স্বামী বিবেকানন্দ এবং রামকৃষ্ণের পবিত্র ভূমি। কিন্তু তৃণমূল সরকার শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের স্বার্থে তুষ্টিকরণ করছে। এবার খেলা শেষ করার সময় এসেছে।”
ডবল ইঞ্জিন সরকারের ডাক তমলুকের এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে বাংলার মানুষকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার (কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একই দলের সরকার) গঠনের আহ্বান জানান যোগী। তাঁর মতে, বাংলাকে পুনরায় সোনালী যুগে ফেরাতে হলে বিজেপি ছাড়া বিকল্প নেই।
রাজনৈতিক মহলের নজর এদিন তমলুকের সভায় যে পরিমাণ ভিড় দেখা গিয়েছে, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬-এর নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুর তথা দক্ষিণবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের পাল্লা ভারী করতে যোগীর এই মেগা র্যালি বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।
এখন দেখার, যোগীর এই ‘বিস্ফোরক’ আক্রমণের পাল্টা জবাব তৃণমূল শিবির কীভাবে দেয়।





