পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল। নবম, দশম এবং একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া আরও ২৬৯ জন ‘অযোগ্য’ প্রার্থীকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানাল কমিশন।
এই প্রার্থীরা ৩০ অগাস্ট প্রথম দফায় ‘অযোগ্যদের’ তালিকা প্রকাশের পরেও চুপিসারে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছিলেন এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াতেও অংশ নিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এসএসসি পুনরায় গোটা তালিকা খতিয়ে দেখা শুরু করে এবং এই ২৬৯ জন ‘অযোগ্য’কে চিহ্নিত করে। কমিশনের তরফে নির্দেশিকা জারি করে এদের বাতিল করা হয়েছে।
নাম বদলেও রক্ষা পেলেন না ‘অযোগ্য’রা
স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এই বিষয়ে বলেন, “৩০ অগাস্ট আমরা অযোগ্যদের তালিকা প্রথম দফায় প্রকাশ করেছিলাম। সেই সময় আমরা জানিয়েছিলাম কোনো অযোগ্য আবেদন করতে পারবেন না, বা নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন না। তারপর আমরা আবার গোটা তালিকা খতিয়ে দেখেছি। খতিয়ে দেখার পরেই এই ২৬৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা অযোগ্যদের মধ্যে থেকেও আবেদন করে রেখেছিলেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বাবার নামের পরিবর্তে মায়ের নামও ব্যবহার করেছিলেন, অর্থাৎ ছদ্মবেশে নিয়োগে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।”
সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল কমিশন: বাতিল ৮ শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীও
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নিজেদের পূর্ব অবস্থান থেকে পিছিয়ে এল স্কুল সার্ভিস কমিশন। এর আগে এসএসসি অনড় ছিল যে, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সুযোগ পেতে পারেন।
কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য ৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীকেও নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল এসএসসি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
অভিযোগ জানানোর সুযোগ
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসএসসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি খবর পান যে অযোগ্য প্রার্থীরা এখনও তালিকায় রয়েছেন, তবে তাঁরা স্কুল সার্ভিস কমিশনকে সেই তথ্য জানাতে পারেন। এই তথ্য অ্যাডভোকেট জেনারেলের মাধ্যমে অথবা এসএসসিকে ই-মেইল করেও জানানো যেতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।