‘SORRY’ বলে মমতা-সান্নিধ্যের ইতি, তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে ঋতব্রত শিবিরে মদন মিত্র!

রাজনীতির আঙিনায় বড়সড় নাটকীয় মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র অবশেষে ছেড়ে দিলেন নেত্রীর হাত। বুধবার দুপুরে ‘SORRY’ লিখে এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি। শুধু হাত ছাড়লেন না, রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গী মদন মিত্র যুব কংগ্রেসের সময় থেকেই ছায়ার মতো ছিলেন পাশে। ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন পরিবহণ ও ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব মদন মিত্রের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন মমতা। সারদা কাণ্ড থেকে নারদকাণ্ড—প্রতিটি কঠিন সময়ে মদন মিত্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেই সম্পর্কের বাঁধন বুধবার ছিঁড়ে গেল।
পদত্যাগের পর মদন মিত্রের গলায় ধরা পড়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওখানে কাজের পরিবেশ ক্রমশ দমবন্ধ হয়ে আসছিল। আমি সেখানে থাকতে পারছি না। আমি এখন ‘ফ্রি বার্ড’। তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে আমি সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব।” তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিদেশে সফরের সময় মমতার সঙ্গে কোন কোন ব্যবসায়ী গিয়েছেন, তার তালিকা প্রকাশ করলে রাজ্যের অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে।
শুধু তাই নয়, এই শিবির বদলের নেপথ্যে উঠে এসেছে নতুন সমীকরণ। মদন মিত্র এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র শিবিরে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদানের নেপথ্যে রয়েছে গত মঙ্গলবার ইডি (ED)-র তলব। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করার পরই মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বুধবার বিকেলে গোলপার্কে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে তাঁকে যোগ দিতেও দেখা গেছে।
২১শে জুলাইয়ের মঞ্চের ঠিক আগেই মদন মিত্রর এই দলত্যাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এক বড় ধাক্কা। শাসক দলের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপথ কতটা বদলে দেয়, সেদিকেই নজর এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।