পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন বিতর্কের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বড় পদক্ষেপ নিল কমিশন। ট্রাইব্যুনালে আপিল করার পর দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য ১,৪৬৮ জন ভোটারকে তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার, ২৯শে এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা আসনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই মেগা ভোটগ্রহণ। এর মধ্যে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর-সহ সাতটি জেলার হাই-ভোল্টেজ সব আসন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে ফিরল ভোটাধিকার
প্রথম দফার ভোটে মাত্র ১৩৯ জন ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয় দফায় সেই সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,৪৭৪টি আবেদন পর্যালোচনা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১,৪৬৮ জনের দাবিকে বৈধ বলে মান্যতা দিয়ে তাঁদের নাম সম্পূরক তালিকায় যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাত্র ৬ জনের আবেদন খারিজ হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ১৪২টি আসন থেকে বিচার বিভাগীয় যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রায় ১২ লক্ষ ৮৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা মেনে আজ সেই তালিকার চূড়ান্ত যাচাই সম্পন্ন হলো।
SIR বিতর্ক ও ৯০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য
পশ্চিমবঙ্গের এই এসআইআর প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়েছে। গোটা রাজ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট নির্বাচকমণ্ডলীর প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যাঁদের অবস্থা নির্ধারণ করা যায়নি, তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই মুসলিম। এছাড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের মতো দলিত হিন্দুরাও এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বুধবারে নজর যেদিকে
আগামীকাল বুধবারের ভোটে নজর থাকবে মূলত ভবানীপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর দিকে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছিল ২৩শে এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই শেষ মুহূর্তের অন্তর্ভুক্তি ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ জাগিয়েছে। এখন দেখার, এই ১,৪৬৮ জন ভোটার এবং সার্বিকভাবে বাংলার সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সে কী রায় দেন।





