“SIR নিয়ে বাংলায় তুলকালাম!”-সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নড়েচড়ে বসল কমিশন, কড়া বার্তা জ্ঞানেশ কুমারের

বর্তমানে ‘স্পেশাল ইন্টারনাল রিভিশন’ বা SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সরগরম গোটা বাংলা। শাসকদল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া SIR নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে কাজ করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার অগরবালকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

একইসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। SIR চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো রকম আপস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। যদি কেউ আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। এই মর্মে রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

তালিকা প্রকাশ ও ভোটারদের সুবিধার্থে বড় পদক্ষেপ কমিশন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে ‘আনম্যাপড ভোটার’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র আওতায় থাকা ভোটারদের নাম জনসমক্ষে আনা হবে। আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, মহকুমা অফিস এবং ব্লক অফিসে এই তালিকা দেখা যাবে। শহর এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের নাম যাচাই করে নিতে পারেন।

বিএলএ (BLA) ও প্রতিনিধিদের জন্য নতুন নিয়ম বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে নিয়েছে কমিশন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারের অনুমোদিত প্রতিনিধি হতে পারেন বিএলএ-রা। এমনকি পরিবারের যে কেউ প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে ভোটারকে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর বা টিপছাপ দিয়ে নিজের সম্মতি জানাতে হবে।

শুনানির স্থান ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে স্বস্তি SIR শুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। মূলত শুনানির কেন্দ্র অনেক দূরে হওয়ায় ভোটাররা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে ভোটারদের বাড়ির কাছাকাছিই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেখানেই নাম সংযোজন বা বিয়োজন সংক্রান্ত দাবি জানানো যাবে।

অন্যদিকে, জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তারও অবসান ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এখন থেকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জন্ম তারিখের বৈধ প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের এই কড়া অবস্থান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা বাংলার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা শান্তি ফেরাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy