পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন দুই দফায় ভোটের ঘোষণা করার পর থেকেই প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে সবথেকে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে সিপিআইএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের একটি মন্তব্য। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ তিনি সাফ জানিয়েছেন, “এর শেষ দেখে ছাড়ব!” কিন্তু কেন এমন রণংদেহি মেজাজে বাম নেতা? এর নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লড়াই।
কেন এই হুঁশিয়ারি? সেলিমের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে ‘SIR’ বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ঝুলে রয়েছে। সেলিমের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বাম এবং বিরোধী মনোভাবাপন্ন ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই যে ষড়যন্ত্র, আমরা তার শেষ দেখে ছাড়ব। আদালত থেকে রাজপথ— লড়াই চলবে সব জায়গায়।”
দুই দফার ভোট নিয়ে বামেদের অবস্থান: দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট ও বিজেপি উভয় পক্ষই অল্প দফায় স্বচ্ছ ভোটের দাবি জানিয়ে আসছিল। কমিশন দুই দফায় ভোট ঘোষণা করায় তাকে স্বাগত জানালেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেলিম। তাঁর মতে, শুধু দফা কমালেই হবে না, বুথে বুথে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শাসক দল তৃণমূলকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে বামেরা: ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা শূন্য হাতে ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৬-এ ছবিটা পাল্টাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন। মহম্মদ সেলিমের কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত, এবার আর এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে ছাড়বে না বাম শিবির। নতুন প্রার্থী তালিকা, তরুণ মুখের আধিক্য এবং গ্রাউন্ড লেভেলে আন্দোলনের মাধ্যমে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে নেমেছে তাঁরা। সেলিমের এই “শেষ দেখে ছাড়ব” মন্তব্য কার্যত সেই জেদ এবং চূড়ান্ত লড়াইয়েরই প্রতিফলন।