পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Inquiry Report) ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির নামে যে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের এই রায়কে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিল।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আসলে কী? সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যের গাণিতিক বা যৌক্তিক অসঙ্গতি। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৯৮ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের তথ্যে গোলমাল ধরা পড়েছে। কমিশনের চিহ্নিত করা অসঙ্গতিগুলি হলো:
-
সন্তান ও বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়া।
-
বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি হওয়া।
-
একই ঠিকানায় বা একই পরিবারের সঙ্গে ৬ জনের বেশি ভোটারের নামের রহস্যজনক সংযোগ।
শুনানিতে কোন নথি বাধ্যতামূলক? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন কমিশনকে সেই সব ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। শুনানিতে নিজের নাগরিকত্ব ও তথ্যের সঠিকতা প্রমাণ করতে ভোটারদের নিচের নথিগুলির মধ্যে যে কোনো একটি সঙ্গে রাখতে হবে: ১. ১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা এলআইসি (LIC) নথি। ২. সরকারি চাকরির পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট। ৩. বার্থ সার্টিফিকেট অথবা মাধ্যমিক বা উচ্চতর শিক্ষার অ্যাডমিট কার্ড/সার্টিফিকেট (সুপ্রিম কোর্ট এটিকেও মান্যতা দিয়েছে)। ৪. আধার কার্ড, জমি-বাড়ির দলিল বা কাস্ট সার্টিফিকেট। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বাসস্থানের প্রমাণপত্র।
কেন এই সংঘাত? কমিশন প্রথমে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৯৮ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে কাউকে অকারণে হয়রানি করা যাবে না এবং বিএলএ (BLA)-দের উপস্থিতিতেই শুনানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে।