রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট সৌরভ চক্রবর্ত্তীর মতে, তথাকথিত ‘ডায়মন্ড মডেলের আস্ফালন’ আসলে কোনো শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এটি গভীর ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই ভয়ের মূলে রয়েছে বিপুল পরিমাণ বেনামী ও পাচার করা সম্পদ।
ভয়ের কারণ: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ
লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা অর্জিত লক্ষ কোটি টাকার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই বিদেশে পাচার করা আছে এবং অনেক সম্পত্তি বেনামে রাখা হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুতি ও বিপদ: যতদিন ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে, সেই বেনামী টাকা নিরাপদ। কিন্তু একবার ক্ষমতাচ্যুত হলে এই বিপুল সম্পদ ‘মায়ের ভোগে’ চলে যেতে পারে, যেমনটি পূর্বে বহু স্বৈরাচারী শাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে (পশ্চিমে বা পূর্বে)। এই নেতারা এখন সাধারণত তাদের অর্থ পশ্চিমা দেশ বা দুবাইয়ে সম্পত্তি কেটে বা নানা পথে বিনিয়োগ করে রাখেন।
ঐতিহাসিক উদাহরণ: ভারতেও অতীতে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। ১৯৮৪ সালে ‘আইরন লেডির’ আকস্মিক মৃত্যুর পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের টাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখেছিলেন, যা ১৯৮০-এর দশকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বদল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট।
অস্থিরতার মূল কারণ:
লেখক মনে করেন, যখন পারিবারিক দল ও স্বৈরশাসন একসাথে থাকে, তখন এমন ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিপুল কালো টাকা বেনামে থাকার পরেও ক্ষমতা রক্ষার জন্য বিলি-বণ্টন করা হচ্ছে। এই টাকা যাতে হারিয়ে না যায়, তার জন্যই এই ক্ষমতার প্রদর্শনী।
💬 লেখকের বক্তব্য: “তাদের পতনের পর এই বিপুল বেনামী সম্পদ ‘মায়ের ভোগে’ চলে যায় — আর তাই ক্ষমতায় থাকতে তারা মরিয়া চেষ্টা চালায়, এবং কখনো কখনো অস্থিরতা-সৃষ্টি করে দেখাতে চায় যে ক্ষমতা হাতছাড়া হবে না, যাতে আগেই কেউ তাদের টাকায় ছুতে না পারে।”
সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর কৌশল:
ক্ষমতা ও সম্পত্তি রক্ষার এই মরিয়া চেষ্টার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে।
ভয়ের উপাদান: SIR, NRC, বাঘ, ভাল্লুক, ভূত, ভাতা ইত্যাদির মতো বিষয়গুলির ভয় দেখিয়ে এক ধরনের অস্থির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
কর্মীদের ব্যবহার: নিম্ন স্তরের দলীয় কর্মীদের সামনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মীরা মারামারি করবে, কেস খাবে, এবং ‘শহীদ’ হবে। সেই ‘লাশকে কাজে লাগিয়ে’ আরও পাঁচ বছর ধরে জনগণের টাকা লুঠ করার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
লেখক বাঙালিকে ‘খুব সাবধান’ থাকার বার্তা দিয়ে এই বিশ্লেষণ শেষ করেছেন।