২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হতেই রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের নির্বাচনী সভা থেকে তিনি সরাসরি ভোটারদের আবেগ এবং অস্তিত্বের লড়াইকে হাতিয়ার করলেন। বিশেষ করে যাদের নাম এনআরসি (NRC) বা এসআইআর (SIR – Static Inventory Record) সংক্রান্ত জটিলতায় বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তাঁদের পাশে তৃণমূলের অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার ‘পাশে থাকার’ গ্যারান্টি
এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে বা নানা সরকারি নথির অজুহাতে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন কেবল তৃণমূল কংগ্রেসই পথে নেমেছিল। তিনি বলেন:
“মনে রাখবেন, যখন এসআইআরে আপনাদের নাম বাদ দিয়েছিল, যখন আপনাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের জন্য লড়েছে। আমরা রক্ত দিয়ে হলেও আপনাদের অধিকার রক্ষা করব। আজ ভোট দেওয়ার সময় সেই দিনের লড়াইয়ের কথা মাথায় রাখবেন।”
প্রথম দফার ভোটে মূল টার্গেট ‘অধিকার’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার ভোট যে এলাকাগুলিতে হচ্ছে, সেখানে মতুয়া বা উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্ক একটি বড় ফ্যাক্টর। এসআইআর বা ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ার আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে বিরোধী শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে চাইছেন। তিনি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিজেপি মানেই অধিকার কেড়ে নেওয়া, আর তৃণমূল মানেই সুরক্ষা।
বিজেপির পাল্টা জবাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যে ভয় দেখিয়ে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিয়ম মেনে যাঁদের নথিতে ত্রুটি আছে, কেবল তাঁদেরই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এর সাথে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই।





