ভোটার তালিকা সংশোধনের লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ রোল অবজার্ভার বা SIR শুনানিতে এবার চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একটি এক্স (টুইটার) পোস্টে তিনি দাবি করেন, মালদা জেলার গাজোল ব্লকে এক ব্যক্তি শুনানির সময় জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র দাখিল করেছেন। শুভেন্দুর এই পোস্ট ঘিরে মালদা ও পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অলিন্দে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী যে শংসাপত্রটির ছবি পোস্ট করেছেন, সেটি রামনাথ হালদার নামে এক ব্যক্তির। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জন্মের তারিখ ১৯৯১ সাল এবং রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১৯৯৬ সালে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, শংসাপত্রটি তৈরি করা হয়েছে ২০০০ সালের রুল ৯ (Rule 9 of 2000) অনুযায়ী। শুভেন্দুর প্রশ্ন, ২০০০ সালের নিয়ম মেনে ১৯৯৬ সালে কীভাবে শংসাপত্র ইস্যু হতে পারে? তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তৃণমূল প্রশাসন জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আগুন নিয়ে খেলছেন’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।
এই ঘটনায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর—দুই জেলার প্রশাসনিক স্তরে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি সাফ জানিয়েছেন, তাঁদের জেলা থেকে এমন কোনো শংসাপত্র ইস্যু করা হয়নি। অন্যদিকে, মালদা জেলা প্রশাসনের এক কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপি এই ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূলের দাবি, জালিয়াতি রুখতে প্রশাসন নিজেই তৎপর এবং বিরোধী দলনেতা কেবল রাজনীতি করছেন। সব মিলিয়ে SIR শুনানি ঘিরে এখন সরগরম মালদার রাজনীতি।