দেশের সংরক্ষণ নীতি নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো সংরক্ষিত শ্রেণির (SC/ST/OBC) প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে (যেমন প্রাথমিক পরীক্ষা বা প্রিলিমিনারি) সংরক্ষণের সুবিধা বা ছাড় গ্রহণ করেন, তবে পরবর্তী পর্যায়ে তিনি আর সাধারণ বা ‘জেনারেল’ ক্যাটাগরির আসন দাবি করতে পারবেন না। (ছবি- সংগৃহীত)
কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় বাতিল বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের আগের একটি সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছে। হাইকোর্ট একজন তফসিলি জাতির (SC) প্রার্থীকে সাধারণ বিভাগের সিটে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিল কারণ তিনি মেধা তালিকায় জেনারেল প্রার্থীদের চেয়ে ভালো ফল করেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন গ্রহণ করে এই নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: জি. কিরণ বনাম ভারত সরকার মামলাটি ছিল ভারতীয় বন পরিষেবার (IFS) নিয়োগ নিয়ে। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী জি. কিরণ মেধা তালিকায় ১৯তম স্থানে ছিলেন, যেখানে সাধারণ শ্রেণির প্রার্থী অ্যান্টনি ছিলেন ৩৭তম স্থানে। কর্ণাটকে তখন মাত্র একটি সাধারণ ক্যাটাগরির ইনসাইডার পদ খালি ছিল। ভালো র্যাঙ্ক থাকার কারণে কিরণ সেই সাধারণ আসনের দাবি জানান। কিন্তু সমস্যা বাধে তখনই, যখন দেখা যায় কিরণ তাঁর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বয়সের ছাড় বা নম্বর কাট-অফ-এর ক্ষেত্রে সংরক্ষিত শ্রেণির সুবিধা নিয়েছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
-
ছাড়ের নিয়ম: প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় একবার সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে ফেললে, ওই প্রার্থী চিরতরে সেই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির বলেই গণ্য হবেন।
-
জেনারেল সিটের অধিকার: মেধা তালিকায় অনেক উপরে থাকলেও তিনি আর অসংরক্ষিত (Unreserved) আসনের দাবিদার হতে পারবেন না।
-
ক্যাডার বরাদ্দ: ক্যাডার বরাদ্দের সময়ও ওই প্রার্থীকে সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য নির্ধারিত পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
এই রায়ের ফলে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্যাডার বরাদ্দ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।