রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সম্প্রতি রাজ্যে সম্পন্ন হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে, ‘অযোগ্য’ ও ‘ভুয়ো’ রেশন কার্ড বাতিলের নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য খাদ্যদপ্তর। এর ফলে আগামী জুলাই মাসের আগেই বহু গ্রাহকের রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে: খাদ্যদপ্তরের বিশেষ সচিবের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা তথ্যে গুরুতর অসংগতি মিলেছে, তাঁদের ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য রেশন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে সরিয়ে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ামক ও রেশনিং ডিরেক্টরদের এই পুরো প্রক্রিয়াটি আগামী ১৫ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারা ছাড় পাচ্ছেন? (গুরুত্বপূর্ণ তথ্য): সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই যে কার্ড বাতিল হবে তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে:
ট্রাইবুনালে আবেদনকারী: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর যারা ইতিমধ্যে আইনত ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাদের রেশন কার্ড আপাতত চালু থাকবে।
সিএএ আবেদনকারী: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) ভিত্তিতে যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও নথিপত্র দাখিল সাপেক্ষে কার্ড বাতিল হবে না।
প্রয়োজনীয় নথি: এই সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের তাদের আবেদন করার নথি অনলাইনে আপলোড করতে হবে। নথিপত্র জমা না দিলে কার্ড বাতিল করা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি? রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রেশন ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করতে সচেষ্ট। মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকা, ডুপ্লিকেট কার্ড বা অযোগ্য ব্যক্তিদের কার্ডের সুবিধা নেওয়া—এসবই চিহ্নিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে প্রকৃত উপভোক্তারা আরও ভালোভাবে পরিষেবা পাবেন বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সাধারণ গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যদি আপনার ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড সংক্রান্ত কোনো অসামঞ্জস্য থেকে থাকে, তবে অবিলম্বে স্থানীয় খাদ্য দপ্তরের অফিসে যোগাযোগ করুন অথবা সরকারি পোর্টাল চেক করুন।





