PoK-তে পাক হামলা-অত্যাচার, উঠলো গণহত্যা চালানোর মারাত্মক অভিযোগ

পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoK) অসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু করল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে রাওয়ালকোটের উমর ফারুক চকসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলা এবং অবারিত গুলিবর্ষণ চালাচ্ছে পাক রেঞ্জার্স ও ফ্রন্টিয়ার কোর (FC)। নির্বিচারে চালানো এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৩ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাক বাহিনীর ছোড়া গোলা ও ড্রোন হামলায় রাওয়ালকোটের একাধিক অসামরিক বাড়িঘর দাউদাউ করে জ্বলছে। হামলাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোন ও ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের শ্র্যাপনেল (টুকরো) হাতে নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, ইসলামাবাদ থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সরাসরি তাঁদের ওপর ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ জারি করেছে।
ইন্টারনেট স্তব্ধ, চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো শহরে
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোটা রাওয়ালকোট জুড়ে সমস্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তথ্য প্রচার আটকে প্রতিবাদ দমানোর চেষ্টা চললেও উল্টে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও হাজারে হাজারে মানুষ পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের নির্দেশেই অসামরিক বাসস্থান ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের টার্গেট করে এই নৃশংস আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই টানা আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত পাক বাহিনীর হাতে ১৫৩ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীর প্রাণ গেছে।
November 5, 2026 | Rawalakot, POJK
Pakistan forces have launched drone strikes in Rawalakot, Kashmir.
All mobile networks and internet services have been completely shut down.
The city is gripped by fear and chaos, with dozens killed and injured. https://t.co/RQjdfqCtlR
— برهان الدین | Burhan uddin (@burhan_uddin_0) November 5, 2026
শুধুই আটা-বিদ্যুৎ নয়, লড়াই এবার অধিকার আদায়ের
গত চার মাস ধরে রাওয়ালকোটে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কেবল সস্তা বিদ্যুৎ কিংবা সস্তা আটার দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি—আইনসভায় নিজস্ব প্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্পূর্ণ অধিকার এবং প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন।
একটানা গুলির শব্দ ও ড্রোন হামলার মুখেই স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের নেতৃত্বাধীন এই দমন-পীড়নের সামনে তাঁরা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবেন না। শত সেন্সরশিপ সত্ত্বেও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের এই উত্তাল রূপ পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।