“একটি মিষ্টির টুকরোই ১,১১১ টাকা!”-দীপাবলিতে ভারতের সবচেয়ে দামী মিষ্টি, জানুন কি দিয়ে তৈরী?

দীপাবলিতে মিষ্টির স্বাদ, আভিজাত্য এবং অভিনব উপস্থাপনায় নতুন ইতিহাস গড়ল রাজস্থানের জয়পুর। চেনা মিষ্টির ছক ভেঙে রাজকীয় ঐতিহ্য ও বিলাসবহুল ছোঁয়ায় বাজারে এসেছে ‘ত্যোহার অশরফি’-সহ একগুচ্ছ মহারঘ্য মিষ্টি। যার ১ কেজির দাম ছুঁয়েছে ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা! দেখতে হুবহু রাজা-মহারাজাদের জামানার সোনার মোহরের মতো। শুধু স্বাদই নয়, এই মিষ্টি বিক্রিও হচ্ছে গয়নার বাক্সে করে!

সোনার মোহর ‘ত্যোহার অশরফি’: ১টি মিষ্টির দাম ১,১১১ টাকা!

জয়পুরের ‘ত্যোহার বাই অঞ্জলি জৈন’ সংস্থার তৈরি এই বিশেষ মিষ্টিটি রাজকীয় অশরফি উপহার দেওয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত।

  • কী দিয়ে তৈরি: বাদামের বিশেষ মিশ্রণ, ভোজ্য ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ, স্বর্ণভস্ম এবং খাঁটি জাফরান।

  • দাম ও ওজন: প্রতিটি ৯ গ্রাম ওজনের মিষ্টি দেখতে সোনার কয়েনের মতো, যা জাফরানের সুতো দিয়ে সাজানো। এক একটি টুকরোর দাম ১,১১১ টাকা। ৯টি মিষ্টির একটি বিশেষ বাক্সের দাম রাখা হয়েছে ৯,৯৯৯ টাকা।

  • বিশেষত্ব: বিশেষ গয়নার বাক্সের আদলে তৈরি প্যাকেজিংয়ে এটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত একদম তরতাজা ও ভালো থাকে।

৯টি রত্নের স্বাদে ‘ত্যোহার নবরত্ন’ কাজু কাতলি

কাজু কাতলিকেও দেওয়া হয়েছে এক অভূতপূর্ব রূপান্তর। ‘ত্যোহার নবরত্ন’ নামক এই মিষ্টির বাক্সে রাখা হয়েছে ৯টি আলাদা স্বাদের টুকরো, যা ৯টি মূল্যবান রত্নের রং ও নামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি:

  1. ইয়েলো স্যাফায়ার: জাফরানের স্বাদ।

  2. হেসোনাইট: ক্র্যানবেরির স্বাদ।

  3. এমেরাল্ড: পেস্তার স্বাদ।

  4. কোরাল: স্ট্রবেরির স্বাদ।

  5. রুবি: গোলাপের পাপড়ির মিশ্রণ।

  6. ব্লু স্যাফায়ার: ব্লুবেরির স্বাদ।

  7. ক্যাটস আই: কফির স্বাদ।

  8. ডায়মন্ড: রুপোর প্রলেপে মোড়ানো।

  9. পার্ল: খাঁটি কাজু কাতলি।

এই রত্নখচিত বিশেষ কাজু কাতলির দাম কেজি প্রতি ৩,৩৩৩ টাকা।

১.১১ লক্ষ টাকার ‘স্বর্ণ প্রসাদম’ ও রুপোর মিষ্টি

‘ত্যোহার সুইটস’-এর আরও একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ হলো ‘স্বর্ণ প্রসাদম’। প্রিমিয়াম ড্রাই ফ্রুটস এবং ২৪ ক্যারেট ভোজ্য সোনার প্রলেপ দেওয়া এই মিষ্টির দাম কেজি প্রতি ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। প্রতিটি টুকরোর দাম পড়ে প্রায় ৩,৫০০ টাকা।

এছাড়াও রয়েছে রুপোর ভস্ম দিয়ে তৈরি বিশেষ মিষ্টি, যার দাম কেজি প্রতি প্রায় ৭৫,০০০ টাকা (প্রতি টুকরো প্রায় ১,৫৫০ টাকা)।

বাজির আদলে মিষ্টির থালা ও থ্রি-লেয়ার বোমার গিফটিং বাক্স!

উৎসবের মরসুমে সাধারণ উপহারের বাক্সের বদলে জয়পুরের কারিগররা নিয়ে এসেছেন চমকপ্রদ সব উপহারের হ্যাম্পার:

  • মিষ্টির থালা: সুতলি বোমা, অনার, বুলেট বোমা, প্রদীপ ও বারুদ-বাজির নকশায় সাজানো বিশেষ মিষ্টি।

  • বোমার আদলে উপহারের বাক্স: কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি সুতলি বোমা, অ্যাটম বোমা ও বুলেট বোমার আদলে গিফট বক্স। এর মধ্যে থ্রি-লেয়ার (তিন স্তরের) বিশেষ বোমার বাক্স খুললে তিনটি আলাদা ধাপে মিষ্টি, চকোলেট ও ড্রাই ফ্রুটস সাজিয়ে রাখা যায়।

  • দীপাবলি থাল: লাল, সবুজ ও সোনালি রঙের থালে প্রদীপ, তুলসী স্তম্ভ এবং কলসের আদলে তৈরি ডিজাইন উপহার হিসেবে বেশ নজর কাড়ছে।

পেশায় সিএ, নেশায় ঐতিহ্যকে নতুন রূপ দেওয়া

‘ত্যোহার সুইটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) অঞ্জলি জৈন জানান, প্রায় দু’বছর আগে তিনি এই উদ্ভাবনী ব্যবসা শুরু করেন। মিষ্টি তৈরিতে চিনির জায়গায় প্রচুর পরিমাণে দামি ড্রাই ফ্রুটস ও খাঁটি উপকরণ ব্যবহারের কারণেই এই আকাশছোঁয়া দাম। তাঁদের কালেকশনে কাজু তরমুজ, কাজু আম ও বাদামের ঝুড়ির মতো আরও হরেক স্বাদের মুখরোচক মিষ্টি রয়েছে।

রাজকীয় স্বাদ আর আলোর উৎসবের ছোঁয়ায় জয়পুরের এই বিলাসবহুল মিষ্টি এখন গোটা দেশের খাদ্যরসিকদের চর্চার কেন্দ্রে!