OMG! ১৯ বছরের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের পর ‘খুন’, কাঠগড়ায় অধ্যাপক ও ৩ ছাত্রী

দেবভূমি হিমাচল প্রদেশে এবার র‍্যাগিং ও যৌন নির্যাতনের কলঙ্ক! ধরমশালার একটি বেসরকারি কলেজে ১৯ বছর বয়সি এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কলেজেরই এক অধ্যাপক এবং তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, লাগাতার শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরেই অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ওই তরুণী।

গত বছর কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল দুঃস্বপ্ন। মৃত ছাত্রীর বাবার দায়ের করা FIR অনুযায়ী, কলেজের তিন ছাত্রী তাঁকে নিয়মিত র‍্যাগিং করত। কিন্তু বীভৎসতার সীমা ছাড়িয়ে যায় যখন অভিযোগ ওঠে যে, কলেজেরই এক অধ্যাপক ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন করতেন। এই জোড়া ফলার অত্যাচারে তরুণী চরম আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, যার প্রভাব পড়েছিল তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর।

নির্যাতনের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ছাত্রীকে প্রথমে হিমাচলের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২৬ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই তরুণী। শোকাতুর পরিবারের দাবি, মানসিক বিপর্যয়ের কারণে অভিযোগ জানাতে কয়েক দিন দেরি হয়েছে তাঁদের।

পুলিশ এই ঘটনায় কলেজের অভিযুক্ত তিন ছাত্রী এবং অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারাসহ হিমাচল প্রদেশ র‍্যাগিং নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০০৯-এর অধীনে মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঠিক কীভাবে শারীরিক নিগ্রহ ও যৌন হেনস্থার কারণে ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিমাচলের রাজনীতিতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম ঠাকুর। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্যাতিতার পরিবারের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও, এই ঘটনা ফের একবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy