বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা ও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের হাতে থাকা জরুরি তৈল ভাণ্ডার বা ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ (SPR) কয়েক মাস নয়, বড়জোর ২০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে এই তথ্য ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের বর্তমান পরিকাঠামো অনুযায়ী, বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালোর এবং পদুর—এই তিনটি স্থানে মাটির তলায় বিশাল তেলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। এই ভাণ্ডারে প্রায় ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে দেশের প্রায় ৯.৫ দিনের জরুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর পাশাপাশি ভারতের তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলোর নিজস্ব স্টোরেজ মিলিয়ে মোট জ্বালানি মজুত থাকে প্রায় ৬৪ দিনের। তবে যুদ্ধের মতো চরম পরিস্থিতিতে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে, দেশের হাতে থাকা মজুত তেল মাত্র ২০ থেকে ৪০ দিনের বেশি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তুলনামূলকভাবে আমেরিকা বা চিনের মতো দেশগুলোর হাতে ৯০ থেকে ১০০ দিনের জরুরি তেল মজুত থাকে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ এবং প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে এবং জরুরি অবস্থার মোকাবিলা করতে কেন্দ্র সরকার ওড়িশার চণ্ডীখোল এবং কর্ণাটকের পদুরে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে সেই প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়া পর্যন্ত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা একটি পাতলা সুতোর ওপর ঝুলে রয়েছে বললেই চলে।