ফের একবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বনাম রাজ্য পুলিশের সংঘাতে উত্তপ্ত আদালত কক্ষ। এবার এনআইএ-র (NIA) তদন্তে বাধা দেওয়া এবং কেস ডায়েরি হস্তান্তর না করার অভিযোগে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করল আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, “এনআইএ কি কেস ডায়েরি নিয়ে পালিয়ে যাবে? কেন তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় নথি তুলে দেওয়া হচ্ছে না?” সওয়াল-জবাব চলাকালীন এনআইএ-র আইনজীবীর যুক্তি এবং পুলিশের পিছু হটার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আইনি মহলে।
আদালতে সওয়াল-জবাবের প্রেক্ষাপট ঘটনার মূলে রয়েছে একটি সংবেদনশীল মামলা, যার তদন্তভার বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে এনআইএ-র হাতে। এদিন আদালতে এনআইএ-র আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানান, তদন্তের স্বার্থে ৭ জন অভিযুক্তকে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। বাকি ২৪ জনকে জেল হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, রাজ্য পুলিশ তদন্তের গতি রোধ করতে এনআইএ-কে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিয়ে সাহায্য করছে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছে প্রশাসন।
পুলিশকে ভর্ৎসনা ও কড়া নির্দেশ এনআইএ-র সওয়াল শুনে ক্ষুব্ধ আদালত সরাসরি তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে (IO) সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন যে, একটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এভাবে তদন্তে অসহযোগিতা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনআইএ আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, “সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে অভিযুক্তদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। তবে কেন এই গড়িমসি?” এই টানাপোড়েনের পর আদালত কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেয়, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং দ্রুত কেস ডায়েরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।