নিট ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলা এখন ভারতের জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এই মারাত্মক দুর্নীতির ফলে যখন কয়েক লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে, ঠিক তখনই ময়দানে নামলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক এবং শিক্ষা-উদ্যোক্তা খান স্যার। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA-র কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি যে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
খান স্যার সরাসরি এনটিএ-র নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “NTA-র প্রকৃত নাম হওয়া উচিত ‘Never Trustable Agency’ বা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন একটি সংস্থা।” তার মতে, এই সংস্থাটির প্রতি পড়ুয়ারা দীর্ঘকাল ধরে যে ভরসা রেখেছিল, তা এখন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। প্রশ্ন ফাঁস কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি লক্ষ লক্ষ কঠোর পরিশ্রমী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার নামান্তর।
খান স্যার অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান, “প্রশ্ন ফাঁস হওয়া মানে কেবল একটা কাগজের টুকরো বাইরে আসা নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার পরিবারের কঠোর সংগ্রাম, মধ্যবিত্ত বাবার তিলে তিলে জমানো টাকা এবং একজন পড়ুয়ার কয়েক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম। এনটিএ কোনোদিন এসি ঘরে বসে সেই যন্ত্রণা অনুভব করতে পারবে না।”
এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র করুণা না দেখিয়ে খান স্যার চরমতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে, তাদের জন্য ‘ফাঁসি’-র নিচে কোনো সাজা হওয়া উচিত নয়। অপরাধীদের এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরণের কাজ করার সাহস না পায়।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় খান স্যারের এই মন্তব্য ঝড় তুলেছে। নিট পরীক্ষার্থীরা তার এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে সমর্থনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে এনটিএ-র বিরুদ্ধে চলা এই লড়াইয়ে খান স্যারের মন্তব্য নতুন করে ঘি ঢেলেছে।





