Maha Shivratri 2026: ভোরের আলো ফুটতেই জনসমুদ্র! আদি ভূতনাথের টানে ভক্তিতে ভাসল তিলোত্তমা

মহাশিবরাত্রি ২০২৬: আদি ভূতনাথ মন্দিরে ভক্তির জোয়ার! মহাদেবের আরাধনায় রাজপথে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন

আজ মহাশিবরাত্রি। শহর কলকাতার আকাশ-বাতাস এখন ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত। প্রতি বছরের মতো এবারও উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন শ্রী আদি ভূতনাথ মন্দিরে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়। ফাল্গুন মাসের এই কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে বাবা ভূতনাথের মাথায় জল ঢালতে গত রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে মন্দির চত্বর—সবটাই এখন গেরুয়া বসন আর ভক্তির রঙে রঙিন।

ভোর থেকেই ভক্ত সমাগম: রবিবার ভোরে গঙ্গা স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্রে ভক্তরা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। মন্দিরের গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গে দুধ, গঙ্গাজল, মধু এবং বেলপাতা নিবেদন করার জন্য আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ভক্তকেই দেখা গেল দণ্ডি কাটতে কাটতে মন্দিরের দিকে এগিয়ে যেতে। বিশ্বাস করা হয়, আদি ভূতনাথের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে মহাদেব কাউকেই খালি হাতে ফেরান না।

নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্দির সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে নিরবচ্ছিন্ন ভজন ও কীর্তন, যা পরিবেশকে আরও বেশি আধ্যাত্মিক করে তুলেছে।

রাত্রিজাগরণ ও চার প্রহরের পুজো: আদি ভূতনাথ মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এখানকার চার প্রহরের পুজো। সারারাত জেগে ভক্তরা এখানে শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালবেন। বিশেষ করে শ্মশানেশ্বরের এই রূপ দর্শন করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন। সব মিলিয়ে মহাশিবরাত্রির এই পুণ্যলগ্নে আদি ভূতনাথ মন্দির চত্বর এখন এক টুকরো পুণ্যধাম।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy