আপনি কি কাজের সূত্রে বা পড়াশোনার জন্য ভিন রাজ্যে থাকেন? হাতে নেই স্থায়ী ঠিকানার কোনো প্রমাণ (Address Proof)? তবে আপনার জন্য রয়েছে বিরাট সুখবর। দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং বর্তমান সংকট মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। এখন থেকে পরিযায়ী শ্রমিক, পড়ুয়া এবং পেশাদারদের জন্য রান্নার গ্যাস পাওয়া হবে আরও সহজ।
ঠিকানা ছাড়াই মিলবে সিলিন্ডার: এতদিন নতুন গ্যাস সংযোগ বা সিলিন্ডার নিতে গেলেই স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র দিতে কালঘাম ছুটত ভাড়াবাড়িতে থাকা মানুষের। কেন্দ্র জানিয়েছে, এখন থেকে ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডার (FTL – Free Trade LPG) কিনতে আর কোনো অ্যাড্রেস প্রুফ লাগবে না। স্রেফ আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের মতো সরকারি পরিচয়পত্র দেখালেই মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে গ্যাস সিলিন্ডার।
কী কী সুবিধা পাবেন পরিযায়ী শ্রমিক ও পড়ুয়ারা?
সহজ প্রাপ্যতা: ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারগুলি (যেমন ইণ্ডেনের ‘ছোটু’ বা ভারত গ্যাসের ‘মিনি’) এখন যে কোনো অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে কেনা যাবে।
ডবল বরাদ্দ: কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির সিলিন্ডারের বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে, যাতে সাপ্লাই চেনে কোনো টান না পড়ে।
স্বল্প নথিপত্র: স্থায়ী ঠিকানা না থাকলেও কেবল একটি সেলফ-ডিক্লারেশন (স্ব-ঘোষণা) পত্র দিলেই মিলবে এই সুবিধা।
কেন এই নয়া পদক্ষেপ? সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং এলপিজি সরবরাহে চাপের কারণে সাধারণ মানুষ যাতে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ। মন্ত্রকের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহেই রেকর্ড সংখ্যক ৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে, যার বড় অংশই ব্যবহার করেছেন ছাত্রছাত্রী ও শ্রমিকরা।
একনজরে কেন্দ্রের নির্দেশিকা:
প্রয়োজনীয় নথি: আধার কার্ড/প্যান কার্ড/ভোটার কার্ড।
সময়সীমা: ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মিলবে সিলিন্ডার।
কাদের জন্য: যাদের স্থায়ী ঠিকানা নেই বা যারা ছোট পরিবারে থাকেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। বিশেষ করে যারা ঘনঘন ঘর বদল করেন, তাদের জন্য এই নিয়ম এক কথায় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





