কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এবার অভাবনীয় মোড়! রাজনৈতিক ভোট কৌশলী সংস্থা I-PAC-এর অফিসে তল্লাশি ঘিরে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ এবার পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। শনিবার সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় সংস্থার সরাসরি অভিযোগ— খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের তদন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
রাজ্যের বিরুদ্ধেই সিবিআই তদন্তের দাবি! ইডি-র দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্ত চলাকালীন রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে তাঁদের ‘স্বাধীন তদন্তের অধিকার’ মারাত্মকভাবে খর্ব হয়েছে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই (CBI) তদন্তের আর্জি জানিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
নথি লোপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া বর্ণনায় ইডি জানিয়েছে, আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁদের আধিকারিকদের আইনসম্মত কাজে বাধা দেওয়া হয়। সংস্থার অভিযোগ, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ল্যাপটপ-মোবাইলের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ‘বলপূর্বক’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইডি-র মতে, এই পুলিশি হস্তক্ষেপ শুধু তদন্তে বাধাদান নয়, বরং সরাসরি ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার সামিল।
পালটা রক্ষাকবচ নবান্নের, সুপ্রিম কোর্টে ‘ক্যাভিয়েট’ এদিকে ইডি-র এই পদক্ষেপের আঁচ পেয়েই পালটা আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই একটি ‘ক্যাভিয়েট’ দাখিল করেছেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী কুণাল মিমানি। এর অর্থ হলো, রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে সুপ্রিম কোর্ট যেন ইডি-র আবেদনের ভিত্তিতে কোনও একতরফা নির্দেশ বা রায় জারি না করে।
তুঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আই-প্যাক কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এখন চরমে। একদিকে ইডি যখন ‘তথ্য লোপাট’-এর অভিযোগ তুলে দিল্লিকে সক্রিয় করছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি— কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।