GST 2.0: মোদি সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’? কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটি তৈরি করল নির্মলা সীতারমনের মন্ত্রক?

কেন্দ্রীয় সরকার GST ব্যবস্থায় যে বড় পরিবর্তন এনেছে, তাকে ‘GST 2.0’ নাম দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষ যেমন লাভবান হবেন, তেমনই এর পিছনে রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কিছু কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ব্যবস্থায় GST-এর একাধিক স্ল্যাব কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশের দুটি স্ল্যাবে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ এবং বিমার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে।

জিডিপি বৃদ্ধি: জিনিসের দাম কমলে মানুষের হাতে টাকা থাকবে, যা তারা বাজারে খরচ করবে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং দেশের জিডিপি ১ থেকে ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

‘পাপ কর’ ব্যবস্থা: সিগারেট, মদ এবং বিলাসবহুল পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ ‘পাপ কর’ বসানো হয়েছে। এটি একদিকে যেমন এই ধরনের পণ্য ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে, তেমনই সরকারের রাজকোষে অতিরিক্ত রাজস্ব যোগ করবে।

সহজে ব্যবসা: স্ল্যাব কমানোর ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কর ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, যা ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসা করার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

ভোটের আগে উপহার: বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটিকে মধ্যবিত্ত, কৃষক এবং যুবকদের জন্য একটি ‘উপহার’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, যা নির্বাচনে বিজেপির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ নয়: বিরোধীরা এতদিন GST-কে ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ বলে কটাক্ষ করত। এখন এই সরলীকরণের মাধ্যমে সরকার সেই নেতিবাচক ধারণা ভেঙে GST-কে ‘গুড অ্যান্ড সিম্পল ট্যাক্স’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত: এই সিদ্ধান্তে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সম্মতি রয়েছে, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারতের ওপর চড়া শুল্ক বসিয়েছেন, তখন ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে। ট্রাম্পের নীতির ফলে যদি রফতানি কমে যায়, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তি চাহিদা সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেবে। একই সঙ্গে, এই কর সংস্কার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের কর ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, GST 2.0 শুধু একটি কর সংস্কার নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি সমন্বিত পদক্ষেপ।