FORM 6-নিয়ে বড় বদল! নতুন ভোটারদের আর দিতে হবে না অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র

ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। যে রাজ্যগুলিতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে, সেখানকার অনলাইন ভোটার এনরোলমেন্টের Form 6 থেকে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কী ছিল এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র?

নির্বাচন কমিশনের এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রে নতুন ভোটারদের নিজেদের অথবা তাঁদের বাবা-মা কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুমার এমন কিছু তথ্য দিতে হতো, যার মাধ্যমে আগের কোনও ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় তৈরি হওয়া তালিকার সঙ্গে তাঁদের বংশগত যোগসূত্র প্রমাণ করা যেত। তবে যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে ECINET পোর্টালে এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা আপাতত বহাল রাখা হয়েছে।

কোন কোন পোর্টাল থেকে সরছে?

যে রাজ্যগুলিতে SIR পর্ব শেষ হয়েছে, সেখানে ECINET অ্যাপ ও পোর্টালের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) পোর্টাল থেকেও এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, ওই রাজ্যগুলিতে নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের এখন থেকে শুধুমাত্র ১৯৬০ সালের Registration of Electors Rules অনুযায়ী নির্ধারিত Form 6 পূরণ করলেই চলবে।

কমিশনের অন্দরমহলের বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত

গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পরই কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, Form 6-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র SIR প্রক্রিয়ার সময়কালের জন্যই প্রযোজ্য। কমিশনের বক্তব্য ছিল, SIR-এর সময়সীমা শেষ হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই পুরনো ফর্মে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে।

উল্লেখ্য, Form 6-এ এই পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জানা যায়, ফর্মে এই ধরনের পরিবর্তন আনার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। সেই বিতর্কের আবহে অবশেষে SIR-মুক্ত রাজ্যগুলিতে এই বাড়তি বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হলো।

কাজের স্বচ্ছতায় জোর কমিশনের

ভোটার তালিকার এই পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতিতেও একাধিক বড়সড় সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা জারি করে কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কমিশনের বৈঠক পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম মানা হচ্ছে—বৈঠকের অ্যাজেন্ডা আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যবিবরণী বা মিনিটস প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অতীতে সবসময় নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হতো না।