শীতের আগেই ঘর ঝকঝকে করার ম্যাজিক ট্রিকস! এই ৬টি কাজ করলেই দূর হবে স্যাঁতসেঁতে ভাব!

শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করলেই ঘরের পরিবেশে আসে আমূল পরিবর্তন। দিনের আলো কমে আসে, আর শীতের কামড়ে জানালা-দরজা বেশির ভাগ সময় বন্ধ রাখতে হয়। ফলে ঘরের ভেতরে জমতে থাকে ধুলোবালি, বাড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব, কখনো বা দেখা দেয় অস্বস্তিকর দুর্গন্ধও। এ সময় ঘরবাড়ি অপরিচ্ছন্ন থাকলে স্বস্তির বদলে ঘর জুড়ে তৈরি হয় অস্বস্তি। তাই শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ঘরের প্রতিটি কোণ ঝকঝকে ও পরিষ্কার করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তবে একসঙ্গে সব কাজ চাপিয়ে না নিয়ে একটু পরিকল্পনা করে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই শীতজুড়ে ঘর রাখা সম্ভব পরিষ্কার, সতেজ ও আরামদায়ক। চলুন জেনে নেওয়া যাক শীত আসার আগে ঘর পরিষ্কারের সেরা ও কার্যকর কিছু উপায়।

জানালার কাচ ও ফ্রেম পরিষ্কার করুন শীতের দিনে ঘরে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু জানালার কাচে ধুলাবালি, পানির দাগ ও ময়লা জমে থাকলে আলো ঠিকমতো ঘরে ঢুকতে পারে না। তাই প্রথমেই জানালার কাচ, ফ্রেম ও সিল ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। একটি পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ও হালকা সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে কাচ মুছে ফেলতে পারেন। জানালার কোণে জমে থাকা ধুলা এবং আর্দ্রতাও পরিষ্কার করুন। এতে ঘরে আলো-বাতাস চলাচল সহজ হবে, পাশাপাশি জানালাও দেখাবে ঝকঝকে।

কার্পেট ও গালিচা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন শীতের সময় ঘরের মেঝেতে কার্পেট ও গালিচা ব্যবহারের প্রবণতা বহুগুণ বাড়ে। কিন্তু এগুলোর ভেতরে সহজেই ধুলাবালি, চুল, খাবারের গুঁড়া ও অদৃশ্য জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই শীত শুরুর আগেই কার্পেট ভালোভাবে ঝেড়ে বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে দরজার সামনে, বারান্দা ও বসার ঘরের কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। কোথাও খাবার বা পানীয় পড়ে দাগ হলে দ্রুত তা পরিষ্কার করে নিন। প্রয়োজনে কার্পেটের উপযোগী ক্লিনার ব্যবহার করুন।

রান্নাঘরে করুন ডিপ ক্লিনিং শীত মানেই ঘরে নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরির ধুম। তাই রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখা এ সময় আরও বেশি জরুরি। রান্নাঘরের ক্যাবিনেট, হ্যান্ডেল, চুলা, কাউন্টারটপ, সিঙ্ক ও দেয়ালে জমে থাকা তেলচিটে ময়লা দূর করুন। মাইক্রোওয়েভ, ফ্রিজের তাক এবং রান্নার সরঞ্জামগুলোও ভালোভাবে মুছে নিন। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা কোণগুলোতে বিশেষ নজর দিন। রান্নাঘরের ডাস্টবিনও নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। এতে রান্নার জায়গা থাকবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধমুক্ত।

বাথরুমে নিশ্চিত করুন বাতাস চলাচল শীতকালে গোসলের গরম পানি থেকে তৈরি হওয়া বাথরুমের বাষ্প দেয়াল, আয়না ও জানালায় জমে থাকে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হলে সেখানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা থেকে ছত্রাক বা মোল্ড জন্মানোর আশঙ্কা বাড়ে। এ সমস্যা এড়াতে বাথরুমে এগজস্ট ফ্যান ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করুন। গোসলের পর বাথরুমের দরজা বা জানালা কিছুক্ষণ খোলা রাখুন। দেয়াল, আয়না ও মেঝেতে জমে থাকা পানি মুছে ফেলুন। বাথরুমে থাকা পর্দা ও মেঝের ম্যাটও নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন।

কম্বল, লেপ ও শীতের বিছানাপত্র রোদে দিন আলমারিতে দীর্ঘদিন তুলে রাখা কম্বল, লেপ, কাঁথা ও শীতের চাদরে প্রচুর ধুলাবালি জমতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এগুলো বের করে পরিষ্কার করুন। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। সম্ভব হলে পরিষ্কার ও শুকনো আবহাওয়ায় কিছু সময় রোদে ছড়িয়ে দিন। একইভাবে সোফার কুশন কভার, বালিশের কভার ও অতিরিক্ত বিছানার চাদরও ধুয়ে নিন। এতে শীতের শুরুতেই বিছানায় মিলবে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক অনুভূতি।

ঘরের প্রবেশপথ রাখুন পরিচ্ছন্ন ও গোছানো বাইরে থেকে ভেজা জুতো, কাদা কিংবা ধুলোবালি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে মুহূর্তেই নোংরা হয়ে যেতে পারে মেঝে। তাই দরজার কাছে জুতো রাখার জন্য নির্দিষ্ট র‍্যাক রাখুন। ভেজা ছাতা ও জুতো রাখার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা করুন। দরজার সামনে একটি ভালো ডোরম্যাট বিছিয়ে দিন, যাতে বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ঘরের ভেতরে কম ছড়ায়। প্রতিদিন প্রবেশপথ ঝাড়ু দেওয়া ও মোছার অভ্যাস করুন। এতে ঘরের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।

উঁচু ও আড়ালে থাকা জায়গার ধুলা পরিষ্কার করুন ঘর পরিষ্কারের সময় মেঝে, টেবিল কিংবা আসবাবপত্রে বেশি নজর দেওয়া হলেও অনেক সময় উঁচু জায়গাগুলো একেবারে বাদ পড়ে যায়। অথচ আলমারির ওপর, দরজার ফ্রেম, দেয়ালে ঝোলানো ছবির ফ্রেম, সিলিং ফ্যান ও বাতির ওপর প্রচুর ধুলা জমতে পারে। তাই শীতের আগে এসব জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ওপর থেকে নিচের দিকে ধুলা ঝেড়ে নিন। এরপর মেঝে ঝাড়ু দিয়ে ভালো করে মুছে ফেলুন। এভাবে একবারেই ঘরের জমে থাকা সমস্ত ধুলা দূর করা সহজ হবে।

তৈরি করুন সহজ একটি ক্লিনিং রুটিন এক দিনে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করতে গেলে অতিরিক্ত ক্লান্তি আসতে পারে। তাই কাজগুলো ভাগ করে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিদিন থালাবাসন ধোয়া, রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা ও মেঝের দৃশ্যমান ময়মা পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে এক দিন বাথরুম, কার্পেট ও আসবাবপত্র ভালোভাবে পরিষ্কারের জন্য রাখুন। মাসে অন্তত একবার জানালার ফ্রেম, আলমারির ওপর, ফ্যান ও অন্যান্য দুর্গম জায়গায় জমে থাকা ধুলো সরিয়ে ফেলুন। এভাবে ছোট ছোট কাজ নিয়মিত করলে শীতজুড়ে বাড়িত ঝামেলা ছাড়াই ঘর থাকবে পরিষ্কার ও গোছানো।

শীতের মিষ্টি আমেজ উপভোগ করতে পরিচ্ছন্ন ঘরের বিকল্প কিছু হতে পারে না। তাই শীতের ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই ঘর পরিষ্কারের এই কাজগুলো সেরে ফেলুন। পরিষ্কার জানালা, সতেজ বিছানাপত্র, ধুলাবালিমুক্ত আসবাব আর গোছানো ঘর—সব মিলিয়ে শীতের দিনগুলো হয়ে উঠুক আরও বেশি আরামদায়ক, স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তির। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য স্প্রুস।