চোখে জ্বালা ও ক্যাটারাক্টের মারাত্মক ঝুঁকি! গরমে কোন ৫টি ভুলে চোখের বারোটা বাজাচ্ছেন?

বর্তমান আধুনিক যুগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত আমাদের চোখ প্রায় সারাক্ষণই কোনো না কোনো ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে ফিক্সড থাকে। এর ওপর আবার গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম, চড়া রোদ এবং ধুলোবালির কারণে চোখের সমস্যা এখন দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু মানুষই অভিযোগ করেন যে, সারাদিন স্ক্রিন ব্যবহারের পর বা বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়া এবং ঝাপসা দেখার মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোটখাটো লক্ষণগুলিকে অবহেলা করলে তা ভবিষ্যতে অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চোখে এই ধরনের জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি তৈরির পেছনে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হলো চোখের পলক পড়ার স্বাভাবিক হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষ প্রতি মিনিটে গড়ে ১৫ থেকে ২০ বার পলক ফেলেন, যা চোখকে সতেজ ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই আমরা গভীর মনোযোগ দিয়ে মোবাইল স্ক্রিন বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন আমাদের চোখের পলক পড়ার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এর ফলে চোখের ওপরের পাতায় থাকা ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিয়ার বা চোখের জল তৈরি হতে পারে না এবং চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যেতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ (Digital Eye Strain) বা ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’।
এর পাশাপাশি গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং মোবাইল স্ক্রিন থেকে নির্গত এক বিশেষ ধরণের ক্ষতিকর আলো এই সমস্যাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারের ডিসপ্লে থেকে ‘হাই এনার্জি ভিজিবল’ (HEV) লাইট বা নীল আলো অবিরাম নির্গত হতে থাকে, যা সরাসরি রেটিনার ওপর আঘাত করে। এই সমস্যা থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাইরে বের হলে সবসময় ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করলে এই ধরনের জ্বালাপোড়া থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।