পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বারবার দেওয়া নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরাসরি দিল্লিতে তলব করা হলো। সাধারণত কোনো আধিকারিককে ডাকার ক্ষেত্রে ইমেল বা সরকারি চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে কমিশন কোনো প্রথাগত পথে না গিয়ে সরাসরি ফোনের মাধ্যমে মুখ্যসচিবকে আজ বিকেলের মধ্যে দিল্লিতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ? সূত্রের খবর, কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ নবান্ন বারবার এড়িয়ে যাচ্ছে বা কার্যকর করছে না বলে অভিযোগ। মূলত নিচের ইস্যুগুলো নিয়ে কমিশন চরম ক্ষুব্ধ:
-
আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে বারুইপুর পূর্ব এবং ময়নার ইআরও (ERO) ও এইআরও (AERO)-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল কমিশন। কিন্তু নবান্ন তাঁদের লঘু দণ্ড দিয়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
-
ভোটার তালিকায় কারচুপি: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলাকালীন কয়েক হাজার ‘ভুয়ো ভোটার’ বা বিদেশিদের নাম তালিকায় থাকা নিয়ে কমিশনের কড়া পর্যবেক্ষণের পর নবান্নের পাঠানো রিপোর্টে অসংগতি মিলেছে।
-
ফোন মারফত তলব: সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষা না করে সরাসরি ফোনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যসচিব ইতিমধ্যেই দিল্লি পৌঁছেছেন বলে খবর।
সংঘাতের আবহ: এর আগে তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকেও একইভাবে তলব করা হয়েছিল। এবার নন্দিনী চক্রবর্তীকেও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের ওপর রাশ টানতেই নির্বাচন কমিশন এই আগ্রাসী মেজাজে কাজ করছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে জেলা সভাগুলো থেকে আধিকারিকদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “ভয় পাবেন না, আপনাদের সুরক্ষা দেবে রাজ্য।”
আজকের বৈঠকের গুরুত্ব: বিকেল ৩টের পর দিল্লির ‘নির্ভাচন সদন’-এ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ার কথা। মুখ্যসচিবের ব্যাখ্যায় কমিশন সন্তুষ্ট না হলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কমিশন নিজেই বড় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দিতে পারে।