মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আই-প্যাক (I-PAC) তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED)-র আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা হলফনামার উত্তর বা রিজয়ন্ডার ফাইল করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা বা ‘মেন্টেনেবিলিটি’ (Maintainability) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “ইডি অর্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। একটি কেন্দ্রীয় এজেন্সি কীভাবে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করতে পারে? এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।” কল্যাণবাবুর দাবি, এই মামলাটি আদৌ আইনত টেকে কি না, সেটিই আগে বিচার্য হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার পরোক্ষভাবে রাজ্যের বিরুদ্ধে এই মামলা লড়ছে, যা আইনসম্মত নয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকের অফিসে ইডি তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে পৌঁছে যাওয়া এবং নথিপত্র নিয়ে আসার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেছিল ইডি। ইডির অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন। পাল্টায় রাজ্য সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কেবল দলের প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে এসেছিলেন এবং এতে তদন্তে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন প্রথমেই ‘মেন্টেনেবিলিটি’ বা মামলাটি চলার যোগ্য কি না, তা নিয়ে সওয়াল শুনবেন তাঁরা।