কলকাতার রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি চলাকালীন সশরীরে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দিয়ে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, হার্ড ড্রাইভ এবং ফোন নিজের সাথে করে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াই পৌঁছেছে হাইকোর্টের দোরগোড়ায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত। আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা, রণনীতি এবং গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিজেপি ইডি-কে ব্যবহার করছে। তিনি একে ‘ক্রাইম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ইডি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারির অর্থ তছরুপের তদন্তেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কেবল তদন্তে বাধাই দেননি, বরং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছেন।
আইনি মারপ্যাঁচে কি কোণঠাসা মুখ্যমন্ত্রী? ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে পিটিশন দাখিলের অনুমতি চেয়েছে ইডি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, PMLA-এর সেকশন ৬৭ অনুযায়ী ইডি আধিকারিকরা বিশেষ সুরক্ষা পান। যদি রাজ্য সরকার প্রমাণ করতে না পারে যে এই তল্লাশি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়েছে, তবে ইডি-র বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া অসম্ভব। উল্টে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রণব সিংয়ের মতে, “মুখ্যমন্ত্রীর কোনো সাংবিধানিক ইমিউনিটি বা রক্ষাকবচ নেই যা তাঁকে ফৌজদারি অপরাধ থেকে বাঁচাতে পারে।” অনেকে এই ঘটনার সাথে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রসঙ্গের তুলনা টানছেন।
হাইকোর্টে আজ মেগা শুনানি: অন্যদিকে, আইপ্যাক-ও ইডি-র বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই ইডি-র হেফাজত থেকে নথি নিয়ে এসেছেন, যা ক্যামেরাবন্দিও হয়েছে। এই ‘প্রমাণ’ ইডি-র হাত শক্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, নজিরবিহীন এই সাংবিধানিক সঙ্কটে হাইকোর্ট কী রায় দেয়।