রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, নবান্নের অন্দরে অস্বস্তি ততই বাড়ছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটাতে গিয়ে রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ১০,৪০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে।
বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ পাওয়া সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার, কোনো করুণা নয়। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ এই অর্থবর্ষেই মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পের খরচ, অন্যদিকে বকেয়া মেটানোর চাপ— সব মিলিয়ে প্রায় ২২,৭০০ কোটি টাকার সংকটে রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করার কথা ভাবছে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি ইতিমধ্যেই রায়ের আইনি দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আদালতকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এখন দেখার, নবান্ন আইনি লড়াই চালিয়ে যায় নাকি বকেয়া মেটানোর পথেই হাঁটে।