মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) কমপক্ষে ২০ জন শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত Coldrif কাশির সিরাপ নিয়ে শুক্রবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। AIADMK এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই বিষয়টি উত্থাপন করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলে।
ডিএমকে-এর সহযোগী দলের বিধায়ক ভেলমুরুগান এই মৃত্যুকে ‘নির্মম এবং প্রতিরোধযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “যদি আগে থেকেই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাদের ত্রুটিগুলি সংশোধন করত, তাহলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”
তামিলনাড়ু সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ
তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা. সুব্রমানিয়ান বিধানসভায় জানান, মধ্যপ্রদেশে প্রথম শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর, কিন্তু তামিলনাড়ু সরকারকে এ বিষয়ে জানানো হয় ২৫ দিন পরে, অর্থাৎ ১ অক্টোবর।
তিনি দাবি করেন, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তামিলনাড়ু সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মন্ত্রী বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিরাপে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে ওড়িশা ও পুদুচেরিকে সতর্ক করি, যাতে আরও প্রাণ বাঁচানো যায়।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান:
Sresan Pharma-র সমস্ত ১২৬টি ওষুধ উৎপাদন অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে।
কারখানাটি দুই দিনের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তামিলনাড়ুর ৩০০-রও বেশি ফার্মাসিউটিক্যাল প্ল্যান্টে এখন থেকে নিয়মিত নিরীক্ষা চালানো হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, “গত ৬ বছরে Sresan Pharma-তে কেন্দ্রীয় ওষুধ পরিদর্শকদের কোনওরকম পরিদর্শন হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তামিলনাড়ু সরকার কখনও Coldrif সিরাপ কিনে ব্যবহার করেনি।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “যখন প্রথম মৃত্যুর খবর ৪ সেপ্টেম্বর পাওয়া গিয়েছিল, তখনই মধ্যপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করে ওষুধটি পরীক্ষা করলে হয়তো আরও বহু শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত।”
তামিলনাড়ু সরকার দ্রুততা দেখালেও, পুরো দেশে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন উঠে এসেছে।