CGO থেকে বের হতেই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, গ্রেফতার?

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় চড়ে গেল। বুধবার ইডি (ED)-র তলবে সিজিএইচ (CGO) কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে গিয়ে এক চরম নাটकीय পরিস্থিতির মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি দফতর থেকে বের হওয়া মাত্রই চত্বরে হাজির থাকা পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে সোজা লালবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রাথমিক সূত্রে খবর, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও লালবাজারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

কীসের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ?

প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি দায়ের হয়েছিল কলকাতার বউবাজার থানায়। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা এফআইআর (FIR)-এর ওপর ভিত্তি করেই প্রথম তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই বিপুল আর্থিক তছরুপের মামলায় নাম জোড়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ইউনেস্কো বিতর্ক ও ‘মাস আর্ট’:

ইডির প্রাথমিক অনুমান, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ইন্দ্রনীলের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা ‘মধুছন্দা মাস আর্ট’। অভিযোগ, ইউনেস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে বলে ভুয়ো প্রচারণা চালিয়ে কোটি কোটি টাকার পাস বিক্রি করা হয়। বাস্তবে ইউনেস্কোর সঙ্গে এমন কোনো বাণিজ্যিক সমঝোতা ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।

আইনি জটিলতা ও সুপ্রিম কোর্টের মোড়:

গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হন। তবে সুপ্রিম কোর্টেও বড়সড় ধাক্কা খান তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে, বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজেকে মামলা থেকে সরিয়ে নেন। ফলে শীর্ষ আদালত থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনি সুরক্ষা পাননি তিনি।

আর্থিক লেনদেনের বিস্ফোরক দাবি:

এর আগে ‘মাস আর্ট’ কাণ্ডের তদন্তে ইডি এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল, ইন্দ্রনীল সেনের অপর সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। সেখান থেকেই একটি অংশ আর্থিক রয়্যালটি ও অন্যান্য লেনদেনের নামে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।

সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুম মিটতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আইনি ও পুলিশি তৎপরতায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।