“মমতা একা খেতেন না, খাইয়ে খেতেন!”-ইন্দ্রনীলকে পুলিশ তুলতেই বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

সিজিও (CGO) কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়া মাত্রই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গাড়িতে তুলে সোজা লালবাজারে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। দুর্গাপুজো ও ‘মাস আর্ট’ কাণ্ডে দীর্ঘ ইডি (ED) জিজ্ঞাসাবাদের পর এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পরেই নবান্ন থেকে সরাসরি তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি— ইন্দ্রনীল সেন একা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, এর পিছনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ও ভাগ রয়েছে।
“খাইয়ে খেতেন মমতা, ডুয়েট গানও শেষ!”
বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইডি ও কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই তদন্তকারীরা আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন।”
এরপরই মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্য, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতেই এই কাজ হয়েছে। ওঁরও ভাগ থাকতে পারে, কারণ উনি একা তো খাননি— খাইয়ে খেতেন! ওঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন, একসঙ্গে গান গাইতেন। শেষ গানটাও তো আমরা শুনেছি— ‘আমার যাওয়ার সময় হল, দাও বিদায়’!”
৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন ও ইডি-র বিস্ফোরক দাবি:
তদন্তের স্বার্থে ইডি-র দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী থাকাকালীন ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। যদিও ইন্দ্রনীল সেনের দাবি ছিল, এই টাকা সম্পূর্ণ ‘রয়্যালটি’ বাবদ দেওয়া হয়েছিল।
বাম আমল থেকে তৃণমূল: ইন্দ্রনীলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কটাক্ষ
ইন্দ্রনীল সেনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা সময়ে উনি সিপিআইএম (CPIM)-এর ব্লু আইড বয় ছিলেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে গান-বাজনা করেছেন। জল যেমন পাত্রের আকার ধারণ করে, উনিও তেমন রূপ বদলান। পরবর্তীতে মমতার ঘনিষ্ঠ হয়ে মন্ত্রী হন।”
শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “গায়কদের খাম থেকেও টাকা বের করে নেওয়া হতো। স্ত্রীর নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা খুলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। সিঙ্গুরে তৈরি করা হয়েছে খামারবাড়ি।”
“সবে তো ব্রেকফাস্ট, বড় জায়গায় হাত পড়া বাকি!”
বক্তব্যের শেষে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও তো সবে ব্রেকফাস্ট হয়েছে, এটা কেবল চা-বিস্কুট! আগামী দিনে আরও দেখতে পাবেন। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলে যেতেই হবে। ঠিক সময়ে আরও বড় বড় জায়গাতেও হাত পড়বে, শুধু একটু অপেক্ষা করুন।”
ইন্দ্রনীল সেনের আটক এবং নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক চাঁচাছোলা আক্রমণে রাজপথ থেকে নেটপাড়া— সরগরম গোটা রাজ্য রাজনীতি।